শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে রোমাঞ্চকর ড্র
হারের অপেক্ষায় ছিল ব্রাজিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ও প্রায় শেষ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে থাকা কার্লো আনচেলত্তির দলের সামনে তখন পরাজয়ের শঙ্কা। তবে শেষ বাঁশির ঠিক আগে রায়ানের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিলে কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল দুই দল। তবে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের নতুন শুরুর ম্যাচটি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রাজিলের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। কনর মেটকাফের নেওয়া শট অবশ্য ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর আক্রমণে ফেরে ব্রাজিল। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেন এস্তেভাও। তবে তাঁর প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর রাফিনিয়ার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে।
প্রথমার্ধে পেনাল্টির আবেদনও করেছিল ব্রাজিল। প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে এগিয়ে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার ১৯ বছর বয়সী লুকাস হ্যারিংটনের বাধায় পড়ে যান এনদ্রিক। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করলেও পেনাল্টি পায়নি ব্রাজিল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করেছিল আনচেলত্তির দল। এস্তেভাও ও এনদ্রিকের দারুণ সমন্বয়ে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হ্যারি সুটারের ওপর ব্রুনো গিমারাইসের ফাউল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে ব্রাজিল। রাফিনিয়ার ক্রস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু ভলি নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পা পিছলে যাওয়ায় সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
এরপর রাফিনিয়ার নেওয়া শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। বক্সে অপেক্ষায় থাকা এনদ্রিক ও এস্তেভাও তখন পাস না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।
৬৯ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার চমক
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার নেস্তরি ইরানকুন্ডা। সরাসরি ফ্রি কিক থেকে তাঁর নেওয়া শটের গতিপথ ঠিকমতো বুঝতে পারেননি ব্রাজিলের গোলরক্ষক উগো সুজা। বল জালে জড়ালে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ডাগআউট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিতে থাকেন আনচেলত্তি। একের পর এক বদলি নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন তিনি। মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনদ্রিক ও এস্তেভাও।
তবে অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণের সামনে বারবার আটকে যায় ব্রাজিলের আক্রমণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও সমতা ফেরানোর মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ মুহূর্তে রায়ানের গোলে স্বস্তি
ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আসে নাটকীয় মোড়। রাফিনিয়ার নেওয়া কর্নার থেকে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত হেড করেন রায়ান। মাটিতে পড়ে লাফিয়ে ওঠা বল অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তের এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে রক্ষা পায় আনচেলত্তির দল।
ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে না পারা ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ে। তবে আক্রমণভাগের সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণে ভুল নতুন করে ভাবাবে আনচেলত্তিকে।
আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া।



.png)
.png)