ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৫ নভেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

আদালতে আত্মসমর্পণ, জামিন পেলেন পরীমণি

প্রকাশিত: ১৩:৩২, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৩২, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আদালতে আত্মসমর্পণ, জামিন পেলেন পরীমণি

পরীমণি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার এ মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জিমকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ওই বছরের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে তাঁরা অ্যালকোহল পান করেন। পরে রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি তাঁকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে বসার অনুরোধ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে পরীমণি একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় নাসির উদ্দিনকে গালমন্দ করেন তিনি। পরে দুপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরীমণি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও করেন নাসির উদ্দিন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরীমণি পরে সাভার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

Advertisement
Advertisement