ঢাকা,  শনিবার
৩১ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

শীত এলেই দাঁত শিরশির করে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শীত এলেই দাঁত শিরশির করে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

শীত এলেই দাঁত শিরশির করে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

শীত আসতে না আসতেই ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেলে অনেকের দাঁত শিরশির করে ওঠে। শীতের সকালে ঠান্ডা বাতাসে শ্বাস নিলেও দাঁতে হঠাৎ তীক্ষ্ণ অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। কারও কারও আবার গরম চা কিংবা কফি পান করলেও দাঁতে শিরশিরানি শুরু হয়। সাময়িক এই অস্বস্তিকে অনেকে শীতের স্বাভাবিক সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। তবে বারবার এমন হলে এর পেছনে দাঁতের কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

দাঁত শিরশির করে কেন?

দাঁতের সবচেয়ে বাইরের শক্ত আবরণকে বলা হয় এনামেল। এর নিচে থাকে ডেন্টিন, যার মধ্যে অসংখ্য সূক্ষ্ম নালি রয়েছে। দাঁতের গোড়ার অংশ সাধারণত মাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকে। কোনো কারণে এনামেল ক্ষয়ে গেলে কিংবা মাড়ি সরে গিয়ে ডেন্টিন উন্মুক্ত হলে ঠান্ডা, গরম, মিষ্টি বা টক খাবারের উদ্দীপনা দাঁতের ভেতরের স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে। ফলে অল্প সময়ের জন্য তীব্র ব্যথা বা শিরশিরানি অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় ডেন্টিন হাইপারসেনসিটিভিটি।

শক্ত ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে দাঁত মাজা, অ্যাসিডযুক্ত খাবার ও পানীয় বেশি গ্রহণ, মাড়ি সরে যাওয়া এবং দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যাওয়া এ সমস্যার সাধারণ কারণ। এ ছাড়া দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয়, ফাটল কিংবা পুরোনো ফিলিংয়ের সমস্যার কারণেও একই ধরনের অস্বস্তি হতে পারে।

শীতের সঙ্গে দাঁতের শিরশিরানির সম্পর্ক কী?

শীতের ঠান্ডা বাতাস ও ঠান্ডা পানীয় আগে থেকেই সংবেদনশীল দাঁতে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে শীত এলেই সবার দাঁতের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। দাঁতের সুরক্ষামূলক আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা ডেন্টিন উন্মুক্ত থাকলে তাপমাত্রার পরিবর্তনে ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে।

তাই দাঁত শিরশির করার জন্য শুধু শীতকে দায়ী না করে দাঁতের অবস্থা এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সাধারণ শিরশিরানি, নাকি দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ?

দাঁত শিরশির করলেই যে দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ হয়েছে, তা নয়। সাধারণ সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরমের উদ্দীপনা সরিয়ে নিলে ব্যথা সাধারণত দ্রুত কমে যায়। কিন্তু ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে, কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই শুরু হলে, রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিলে কিংবা খাবার চিবিয়ে কামড় দেওয়ার সময় বেড়ে গেলে দাঁতের ভেতরের পাল্পে প্রদাহ, গভীর ক্যারিজ বা ফাটল থাকার আশঙ্কা থাকে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু সংবেদনশীল দাঁতের টুথপেস্ট ব্যবহার করে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। ব্যথার ধরন ও দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনে এক্স-রের সাহায্যে দন্তচিকিৎসক সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে পারেন।

যেসব অভ্যাস বাড়িয়ে দিতে পারে দাঁতের শিরশিরানি

প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। শক্ত ব্রাশ দিয়ে জোরে দাঁত ঘষলে এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে মাড়ি সরে গিয়ে দাঁতের গোড়ার সংবেদনশীল অংশ উন্মুক্ত হতে পারে। লেবু, কোমল পানীয়সহ অন্যান্য অ্যাসিডযুক্ত খাবার ও পানীয় ঘন ঘন গ্রহণ করলেও এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

আবার ঘুমের মধ্যে দাঁত চেপে রাখা বা ঘষার অভ্যাসেও দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যেতে পারে কিংবা সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হতে পারে। সকালে চোয়ালে ব্যথা, দাঁতের কিনারা ক্ষয়ে যাওয়া বা দাঁতে অস্বস্তি অনুভব করলে বিষয়টি দন্তচিকিৎসককে জানানো উচিত।

দাঁতের শিরশিরানি কমাতে কী করবেন?

দাঁতের শিরশিরানি কমাতে প্রথমেই পরিষ্কারের সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার, প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ধরে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখতে ডেন্টাল ফ্লস বা উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে।

সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি বিশেষ টুথপেস্টে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্যানাস ফ্লোরাইডের মতো উপাদান থাকে। নিয়মিত ব্যবহারে এসব উপাদান দাঁতের শিরশিরানি কমাতে সাহায্য করে। তবে ভালো ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

অ্যাসিডযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করুন। এরপর দাঁত ব্রাশ করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দাঁত পরিষ্কারের জন্য লেবু, লবণ বা কয়লা ঘষার অভ্যাস পরিহার করুন। এগুলো এনামেলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবার ব্যথার ভয়ে দাঁত পরিষ্কার করা কিংবা মুখের কোনো এক পাশ দিয়ে চিবানো বন্ধ করে দেওয়াও ঠিক নয়। এতে মুখের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ব্যাহত হতে পারে।

কখন দন্তচিকিৎসকের কাছে যাবেন?

দাঁতের শিরশিরানি বারবার হলে, নির্দিষ্ট কোনো দাঁতে বেশি অনুভূত হলে কিংবা ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কামড় দিলে ব্যথা, দাঁতে দৃশ্যমান ফাটল, মাড়ি ফুলে যাওয়া কিংবা রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও অবহেলা করা যাবে না।

মুখ বা গাল ফুলে যাওয়ার সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। আর শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।

দাঁতের সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসাও ভিন্ন হতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে ফ্লোরাইড প্রয়োগ বা সংবেদনশীলতা কমানোর চিকিৎসাই যথেষ্ট। আবার দাঁতে ক্যারিজ বা ফাটল থাকলে ফিলিং কিংবা অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। দাঁতের পাল্পে প্রদাহ দেখা দিলে সে অনুযায়ী বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয়।

মনে রাখতে হবে, দাঁত শিরশির করা মানেই দাঁত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। তবে সমস্যাটি বারবার দেখা দিলে এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। তাই শীত উপভোগ করতে গিয়ে দাঁতের অস্বস্তিকে অবহেলা করবেন না।

Advertisement
Advertisement