সাঈদ আনোয়ার
পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের কাছে বলটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। অথচ বলের গতি খুব বেশি ছিল না। বোলারের হাত থেকে বের হওয়ার পর বলটি কোথায় যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারছিলেন না তিনি। মনে হচ্ছিল, মাঝখানে কিছু একটা তাঁর দৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি আনোয়ার।
অথচ তিনি ছিলেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। টেস্টে ওপেনার হিসেবে তাঁর গড় ৫০-এর বেশি। ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৫ টেস্ট খেলেছেন। রান করেছেন ৪ হাজার ৫১, গড় ৪৫ দশমিক ৫০। অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়ার পর তিন বছর দলের বাইরে না থাকলে ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনেও তাঁর গড় ছিল ৪২। অস্ট্রেলিয়ায় তিন টেস্ট খেলে করেছিলেন একটি সেঞ্চুরি। এশিয়ার কোনো ওপেনারের জন্য দেশের বাইরের মাঠে এমন পারফরম্যান্স ছিল বিরল।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের ধরন বদলে দেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায়ও থাকার কথা ছিল তাঁর। শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়াসুরিয়া ওপেনিংয়ে আসার আগেই ওয়ানডেতে এক হাজার রান করেছিলেন আনোয়ার, স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৫। সে সময় যা ছিল দ্রুততম ব্যাটসম্যানদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তবে সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর ব্যাটিংয়ের নান্দনিকতা ছিল আলাদা। ২০২০ সালে ক্রিকেট লেখক ওসমান সামিউদ্দিন ‘ইজ সাঈদ আনোয়ার ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড’ শিরোনামের লেখায় তাঁর ব্যাটিংয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছিলেন, পা না নড়িয়েই সামান্য কবজির মোচড়ে ব্যাটের হালকা ছোঁয়ায় বলকে বাউন্ডারিতে পাঠাতে পারতেন আনোয়ার। শক্তির চেয়ে টাইমিং ও সৌন্দর্যই ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের বড় বৈশিষ্ট্য।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের কাছেও সেরা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের একজন ছিলেন আনোয়ার। ওয়ার্ন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, আনোয়ারের পরিসংখ্যান নয়, তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনই বেশি মনে থাকে।
কিন্তু এই অসাধারণ ব্যাটসম্যানেরও একজন বোলারকে খেলতে সমস্যা হতো। তিনি শ্রীলঙ্কার স্পিন জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরন।
মুরালির বোলিং ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে। তাঁর অ্যাকশন, বল ছাড়ার ধরন এবং আঙুলের ব্যবহার—সবকিছুতেই ছিল অস্বাভাবিকতা। বল ছাড়ার সময় তাঁর হাতের পেছনের অংশ ব্যাটসম্যানের দিকে থাকত। ফলে প্রচলিত অফ স্পিনারদের মতো আঙুলের অবস্থান দেখে বলের গতিপথ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ত। বল হাত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আঙুলগুলোও ব্যাটসম্যানের দৃষ্টিতে একধরনের বাধা তৈরি করত। সামান্য দেরি হলেই নিখুঁত লেংথে পড়া বলের ঘূর্ণি সামলানো কঠিন হয়ে যেত।
সাঈদ আনোয়ারের ক্ষেত্রে সমস্যাটি এতটাই গুরুতর হয়েছিল যে মুরালিধরনকে খেলতে গিয়ে তাঁকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো, একজন ব্যাটসম্যান আসলে কীভাবে বল দেখেন? বল চোখে পড়লেই কি সেটি খেলা সম্ভব?
বল দেখা মানেই বল বুঝতে পারা নয়
ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের চোখের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী ও দৃষ্টিবিশেষজ্ঞ ড. শেরিল কালডার। বিশ্বের নামকরা অনেক ক্রীড়াবিদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি কোচ বব উলমার ও জন বুকাননের সঙ্গেও কাজ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আই জিম’-এর মূল কাজ হলো, খেলোয়াড়দের শেখানো—কোন পরিস্থিতিতে কোথায় এবং কীভাবে তাকাতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে বল এত দ্রুত আসে যে পুরো পথ চোখ দিয়ে অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব। একজন মানুষের গড় প্রতিক্রিয়ার সময় প্রায় ২০০ মিলিসেকেন্ড। একবার চোখের পাতা বন্ধ করে খুলতেই লাগে প্রায় ১৫০ মিলিসেকেন্ড। অথচ মিচেল স্টার্ক বা জফরা আর্চারের মতো পেসার ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করলে বোলারের হাত থেকে ব্যাটসম্যানের কাছে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫০০ মিলিসেকেন্ড বা তারও কম।
তাহলে এত অল্প সময়ে একজন ব্যাটসম্যান কীভাবে সঠিক শট খেলেন?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে অনুমান, অভিজ্ঞতা ও মস্তিষ্কের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায়। বল ছাড়ার ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই ব্যাটসম্যানের শরীরের নড়াচড়া অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা বল ছাড়ার আগেই বোলারের অ্যাকশন, ফিল্ডিং সাজানো এবং পরিস্থিতি দেখে সম্ভাব্য লেংথ ও লাইন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন।
বল ছাড়ার পর প্রথম কয়েক মুহূর্তে তাঁরা গতিপথের সূত্র খুঁজে নেন। বোলার অস্বাভাবিক কিছু করলে শরীরের সামান্য পরিবর্তন থেকেও তা বোঝার চেষ্টা করেন। এরপর মস্তিষ্কের অবচেতন অংশ পরিচিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
অর্থাৎ ব্যাটসম্যানরা অনেক সময় বলের পুরো গতিপথ দেখে শট খেলেন না। বরং আগের অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান সংকেতের ভিত্তিতে অনুমান করেই খেলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বল ছাড়ার পরপরই যদি আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ভালো মানের অপেশাদার ব্যাটসম্যানরাও সঠিক শট নির্বাচন করতে সমস্যায় পড়েন। কিন্তু পেশাদার ব্যাটসম্যানরা অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক জায়গায় গিয়ে সঠিক শট খেলতে পারেন। কারণ, তাঁরা বলের গতিপথের প্রাথমিক সংকেত থেকে পরবর্তী পরিস্থিতি অনুমান করতে অভ্যস্ত।
চোখের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কোথায় তাকাচ্ছেন
আমরা সাধারণত মনে করি, ভালো ব্যাটসম্যানদের দৃষ্টিশক্তি খুব তীক্ষ্ণ এবং তাঁদের প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এমন নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের দৃষ্টিশক্তিকে দুর্বল বলা হয়েছিল। অথচ যুদ্ধের পর ১৫ টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ১০৫। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদির দুর্ঘটনায় একটি চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপরও তিনি ছয়টি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।
তবে চোখের গুরুত্ব একেবারেই নেই, এমন নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লরেন্স রো ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। তাঁর ব্যাটিংকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করা হতো। কিন্তু চোট, ভুল চিকিৎসা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ক্যারিয়ার প্রত্যাশামতো এগোয়নি। কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার টনি কোজিয়ার মনে করতেন, রোয়ের চেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান খুব কমই ছিলেন। কিন্তু ব্যর্থতার ভয় তাঁকে শেষ পর্যন্ত গ্রাস করেছিল।
আবার কিছু ব্যাটসম্যান বোলারের শরীরী ভাষা ও অ্যাকশনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরতে পারতেন। ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ ও নাসের হুসেইন একবার ওয়াসিম আকরামের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আকরামের সুইং বুঝতে পারছিলেন না হুসেইন। তখন গুচ তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, বোলার দৌড় শুরু করার পর হাত আড়াল করার আগেই ভালো করে দেখতে। কারণ, সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে বলের গতিপথের সূত্র।
কিন্তু হুসেইন চেষ্টা করেও সেই সূত্র ধরতে পারেননি। আকরামের দ্রুত ও অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন তাঁকে বিভ্রান্ত করেছিল। কী দেখতে হবে, তা জানলেও কীভাবে দেখতে হবে, সেটি বুঝতে পারছিলেন না তিনি।
ব্যাটসম্যানের চোখ কী কী খোঁজে
একজন ব্যাটসম্যান শুধু বোলারের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকেন না। বোলার বল করার আগেই তিনি মাঠের বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করেন। ফিল্ডারদের অবস্থান দেখে সম্ভাব্য বলের লাইন ও লেংথ সম্পর্কে ধারণা নেন। স্লিপে বেশি ফিল্ডার থাকলে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করার সম্ভাবনা বুঝতে পারেন। মিড-অন বা মিড-অফে ফিল্ডার না থাকলে ফুল লেংথের বল আসতে পারে বলে ধারণা করেন। লেগ সাইডে ফিল্ডার বেশি থাকলে শর্ট বল বা বাউন্সারের সম্ভাবনাও মাথায় রাখেন।
এরপর আসে বোলারের রানআপ, বল ধরার ভঙ্গি, আঙুলের গ্রিপ এবং বল ছাড়ার মুহূর্ত। এসব ছোট ছোট সংকেত থেকেই তৈরি হয় বলের সম্ভাব্য গতিপথের ধারণা।
ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার ম্যাট প্রায়র এই প্রক্রিয়াকে বলতেন ‘টিভি দেখা’। তাঁর মতে, চারপাশের অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঝাপসা করে বল আসার জায়গাটিতে মনোযোগ দিতে হয়। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনের ভাষায়, শরীরের অন্য পেশিগুলোর মতো চোখেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
ড. শেরিল কালডার খেলোয়াড়দের ঠিক এ বিষয়টিই শেখান। বল অনুসরণের কৌশল, চোখের দ্রুত নড়াচড়া বা ‘স্যাকেড’ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট জায়গায় দৃষ্টি স্থির রাখার অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।
অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন যত বেশি, রহস্যও তত বেশি
২০০৮ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস ভারতের বিপক্ষে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। তবে ভারতের হয়ে বীরেন্দর শেবাগ খেলেছিলেন ২০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। মেন্ডিসের রহস্যময় বোলিংয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন শেবাগ।
নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান রস টেলরের মতে, শেবাগ মেন্ডিসকে শুধু একজন অফ স্পিনার হিসেবেই বিবেচনা করেছিলেন। মেন্ডিসের রহস্যময় বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি।
মেন্ডিসের বোলিংয়ের রহস্য বুঝতে টেলরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি লক্ষ করেছিলেন, ক্যারম বল করার সময় মেন্ডিসের আঙুলের অবস্থান অন্য রকম হয়ে যায়। সেই সূত্র ক্রিকেটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তবে টেলরের নিজের দাবি ছিল, তিনি মেন্ডিসের সব ধরনের ডেলিভারির রহস্য বের করার চেষ্টা না করে তাঁকে সাধারণ অফ স্পিনার হিসেবেই খেলেছিলেন।
কিন্তু পরের বছর মেন্ডিসকে খেলতে গিয়ে টেলর নিজেই চোখের সমস্যায় পড়েন। তাঁর চোখে হয়েছিল ‘পটেরিজিয়াম’ নামের একটি রোগ। এতে চোখের সাদা অংশ থেকে টিস্যু বাড়তে বাড়তে কর্নিয়ার ওপর চলে আসে। ফলে চোখে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে রাতে আলোতে বল দেখতে তাঁর সমস্যা হতো।
পরিসংখ্যানেও এর প্রভাব দেখা যায়। দিনের ওয়ানডেতে টেলরের ব্যাটিং গড় ছিল ৫৭। দিবা-রাত্রির ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৭ এবং রাতে ব্যাটিং করার সময় ৪০। ২০১৬ সালের আগে রাতের ম্যাচে তাঁর গড় ছিল ৩৬ দশমিক ৩। চোখের চিকিৎসার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ১-এ।
তবে মজার বিষয় হলো, চোখের সমস্যা ধরা পড়ার আগের দুই বছরে টেলরের ব্যাটিং গড় ছিল ৫১। চিকিৎসার পরের দুই বছরেও গড় ছিল ৫১। অর্থাৎ চোখের সমস্যা নিয়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে রান করে গেছেন।
ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সাফল্য তাই শুধু চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, অনুমান, মনোযোগ এবং মস্তিষ্কের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সেরা ব্যাটসম্যানরা বোলারের হাত থেকে বল ছাড়ার মুহূর্তেই এমন সব সংকেত পড়ে ফেলেন, যা সাধারণ দর্শকের চোখে ধরা পড়ে না।
তাঁরা শুধু বল দেখেন না, বল আসার আগেই তার গতিপথ বোঝার চেষ্টা করেন। আর এ কারণেই কখনো কখনো চোখের সীমাবদ্ধতাকেও হার মানিয়ে ব্যাট হাতে সফল হন তাঁরা।
সেরা ব্যাটসম্যানরা যেন অন্ধকারেও দেখতে পান, যখন তাঁদের চোখও সবকিছু দেখতে পায় না।



.png)
.png)