ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৫ নভেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে রিপাবলিকানরা, চাকরি হারানোর শঙ্কায় হেগসেথ

প্রকাশিত: ১৩:১২, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে রিপাবলিকানরা, চাকরি হারানোর শঙ্কায় হেগসেথ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধেরও ভূমিকা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণের পর বুথফেরত জরিপেই রিপাবলিকানদের ভরাডুবির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল।

মঙ্গলবার রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধও এর একটি কারণ।’

যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পেছনে নিজের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বড় ভূমিকা ছিল বলেও জানান ট্রাম্প। তবে নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পরও হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’

হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, ‘পিট, আমার মনে হয়, আপনিই প্রথম এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। আপনি বলেছিলেন, “চলুন, এটা করি। কারণ, তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না”।’

তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধের দায়ে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। ওই উপদেষ্টার ভাষায়, ‘এই যুদ্ধের জন্য কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে। আর আপনারা জানেন, সেই দায় ট্রাম্প কখনো নেবেন না।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল রিপাবলিকানরা। এর পরদিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেছিলেন। তবে এবার এখন পর্যন্ত হেগসেথের বিষয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।

এদিকে ভোটের পরদিন বুধবার ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত পেন্টাগনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে হেগসেথ ‘শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

হেগসেথ নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও বিতর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুর দিকে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টমাস ম্যাসি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে হেগসেথ পদের অপব্যবহার করেছেন।

এ ছাড়া রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিসও হেগসেথের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, হেগসেথকে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

টিলিসের মতে, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে হেগসেথের টানাপোড়েনের সম্পর্ক কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট পাসের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য হেগসেথই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, তা পর্যালোচনা করা দরকার।

বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র ৬০ দিন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায় জরুরি। ফলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ইরান যুদ্ধের দায় কার ওপর বর্তাবে এবং হেগসেথ শেষ পর্যন্ত তাঁর পদে থাকবেন কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে চাপ আরও বাড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন