আইফোন
আইফোন বা অন্য কোনো অ্যাপল ডিভাইসে হঠাৎ ‘অ্যাপল থ্রেড নোটিফিকেশন’ দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ এটি সাধারণ ভাইরাস বা প্রচলিত হ্যাকিংয়ের সতর্কতা নয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীকে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির স্পাইওয়্যার দিয়ে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হলে অ্যাপল এমন সতর্কবার্তা পাঠায়।
তবে এই নোটিফিকেশন পাওয়ার অর্থ ডিভাইসটি নিশ্চিতভাবে হ্যাক হয়ে গেছে এমন নয়। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে দ্রুত সতর্ক করাই এর উদ্দেশ্য।
কেন এমন সতর্কবার্তা পাঠায় অ্যাপল?
অ্যাপলের ভাষায়, মারসেনারি স্পাইওয়্যার অত্যন্ত উন্নত ধরনের নজরদারি সফটওয়্যার। সাধারণ সাইবার অপরাধীদের তুলনায় এ ধরনের হামলাকারীদের হাতে বেশি অর্থ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা থাকতে পারে। ফলে তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে জটিল উপায়ে ডিভাইসে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
এ ধরনের আক্রমণের লক্ষ্য সাধারণত নির্বিচারে হাজার হাজার মানুষ নয়। বরং সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, কূটনীতিক বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতো নির্দিষ্ট মানুষকে টার্গেট করার ঘটনা অতীতে দেখা গেছে। এই ধরনের স্পাইওয়্যার অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
নোটিফিকেশন পেলে প্রথম কাজ কী?
প্রথমেই আতঙ্কিত হয়ে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা বা অপরিচিত কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত নয়। অ্যাপলের পাঠানো সতর্কবার্তাটি ভালোভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। এরপর ডিভাইসের সফটওয়্যার আপডেট করে সর্বশেষ সংস্করণে নিয়ে আসুন। পুরোনো সফটওয়্যারে থাকা নিরাপত্তার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব। তাই আপডেট পাওয়া মাত্র ইনস্টল করা নিরাপদ অভ্যাস।
চালু করতে পারেন লকডাউন মোড
যারা অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তাদের জন্য অ্যাপলের লকডাউন মোড গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে। এটি চালু করলে কিছু ফিচার ও ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অত্যাধুনিক সাইবার হামলার সম্ভাব্য পথগুলো বন্ধ বা কঠিন করা সম্ভব হয়। তবে এই মোড সাধারণ ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। অ্যাপল থ্রেড নোটিফিকেশন পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজনীয়তা বেশি।
অ্যাপল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ান
শুধু ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই হবে না। আপনার অ্যাপল অ্যাকাউন্টও সুরক্ষিত করা জরুরি। অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু আছে কি না দেখে নিন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার না করে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। সমর্থন করলে পাসকি ব্যবহার করাও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। কেউ যদি ফোন, অ্যাপল অ্যাকাউন্ট বা পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য চায়, পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে তা দেওয়া উচিত নয়।
অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না
স্পাইওয়্যার হামলার ক্ষেত্রে কখনো কখনো ব্যবহারকারীকে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। তাই অপরিচিত নম্বর, ই-মেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে কোনো বার্তায় জরুরি ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টে লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা কোনো ফাইল ডাউনলোড করার অনুরোধ থাকলে আগে সেটি যাচাই করুন। অজানা অ্যাটাচমেন্টও না খোলাই ভালো।
অ্যাপ ডাউনলোডেও সতর্কতা জরুরি
আইফোনে অ্যাপ ইনস্টলের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করুন। অজানা ওয়েবসাইট বা অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সফটওয়্যার ইনস্টলের চেষ্টা না করাই নিরাপদ। পাশাপাশি ফোনে এমন কোনো অ্যাপ রয়েছে কি না, যা আপনি চেনেন না বা ব্যবহার করেন না, সেটিও মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
পাসকোড ও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা
ডিভাইসে শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ফেস আইডি বা টাচ আইডি-এর মতো বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ফিচার চালু রাখা যেতে পারে। এতে ফোন অন্যের হাতে গেলেও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যাপল থ্রেড নোটিফিকেশন মানেই আপনার ফোন নিশ্চিতভাবে হ্যাক হয়েছে, এমন নয়। এটি সম্ভাব্য অত্যন্ত উন্নত ও লক্ষ্যভিত্তিক স্পাইওয়্যার হামলা সম্পর্কে অ্যাপলের সতর্কবার্তা।
তাই এমন নোটিফিকেশন পেলে ভয় না পেয়ে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট করা, অ্যাপল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করা, সন্দেহজনক লিঙ্ক ও ফাইল এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লকডাউন মোড ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



.png)
.png)