রোনালদো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। পর্তুগিজ এই মহাতারকাকে নভেম্বরে দলে ফিরে পেতে চায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু রোনালদোর বোন এলমা আভেইরোর মন্তব্যে সেই প্রত্যাশা ধাক্কা খেয়েছে। তাঁর মতে, রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ছোট ভাইয়ের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এলমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসও।
রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এলমা বলেন, ‘হ্যাঁ হওয়ার চেয়ে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয়, দুজনেই (রোনালদো ও জেসুস) আঘাত পেয়েছেন। এটি এমন পরিস্থিতি, যেখানে তাঁরা নিজেরা মুখোমুখি, আমি নই। আমি শুধু আমার ভাইয়ের হয়ে কথা বলছি।’
পরিস্থিতি যে বেশ জটিল, সেটিও স্পষ্ট করেছেন এলমা। তাঁর ভাষায়, ‘পরিস্থিতি আসলে থমকে আছে, দেখা যাক কী হয়। আমি জানি না, এটি ভীষণ জটিল। যখন আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হই, তখন সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন।’
এলমার এমন মন্তব্যের পর রোনালদোকে আবার পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পর্তুগাল ফুটবলে ভাইয়ের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলেও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। রোনালদোর অর্জনগুলো আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন এলমা। জাতীয় দলকে ঘিরে চলমান বিরোধের মুখোমুখি হতে হওয়ায় ভাইয়ের কষ্ট হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
চলতি মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে উয়েফা নেশনস লিগে চারটি ম্যাচ খেলে পর্তুগাল। দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের আগে দল ছেড়ে চলে যান রোনালদো। পরে তিনি অভিযোগ করেন, পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে দেওয়া দুটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় নিজের শাস্তিও দাবি করেন ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
এরপর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। তবে ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা তাঁকে নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতিতেই জাতীয় দলে ফিরে পেতে চান। কয়েক দিন আগে পোর্তোর নতুন মাঠ উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই অধিনায়ককে ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
রোনালদোর জাতীয় দলের সতীর্থরাও এই বিরোধের সমাধান চান। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমি শুধু চাই, সবকিছু ভালোভাবে সমাধান হোক। আশা করি, তিনি ফিরে আসবেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এটিই চাই। আমি আশা করি, তিনি ফিরে আসবেন এবং সবকিছুর সুরাহা হবে।’
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে সৌদি আরবে নিজের ক্লাব আল নাসরে ফিরে গেছেন রোনালদো। ক্লাবটির সর্বশেষ ম্যাচেও গোল পেয়েছেন তিনি। তবে জাতীয় দল নিয়ে বিরোধের মধ্যেই নতুন আরেকটি বিতর্কে জড়িয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
সিএনএন পর্তুগালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার দাবি করেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমার নামের পাশে সংখ্যাগুলোই সব বলছে।’ ক্যারিয়ারে ৯৮১ গোল করা এই কিংবদন্তির মন্তব্য অবশ্য অনেকেই ভালোভাবে নেননি।
রোনালদোর সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েইন রুনিও এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘রোনালদোকে নিয়ে আমার মনে শুধু একটা প্রশ্ন—কেন? যেদিন (লিওনেল) মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায় নিচ্ছিলেন, সেদিন পর্তুগাল দল থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা, এরপর ওই বিবৃতি দেওয়া—সব দিক থেকেই ভুল।’
সব মিলিয়ে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা এখন নির্ভর করছে তাঁর ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার বিরোধের সমাধানের ওপর। ফেডারেশন ও সতীর্থরা তাঁকে ফিরে পেতে চাইলেও এলমার মন্তব্যে সেই প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।



.png)
.png)