থালাপতি বিজয়
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিইসিবিরোধী বিক্ষোভে যুক্ত হলো মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের দল।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ স্লোগানে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় চেন্নাইয়ের বিক্ষোভে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে।
রাহুল-বিজয় বৈঠকের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। এর কয়েক দিন পরই কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিল তাঁর দল।
সংবাদমাধ্যম সাউথ ফার্স্টের প্রতিবেদনে কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিজয় ও তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের বিজয়ের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক।
রাহুল-বিজয়ের এই বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভে টিভিকের অংশগ্রহণ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দুই দলের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ, ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কোটি কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের বড় একটি অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য। শুধু তামিলনাড়ু থেকেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের এ প্রক্রিয়া সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোনো বৈধ ভোটারের অধিকার যেন খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।



.png)
.png)