ঢাকা,  শনিবার
১৭ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

গাবতলী-মিরপুরে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সাবেক নেতারা

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

গাবতলী-মিরপুরে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সাবেক নেতারা

গাবতলী-মিরপুরে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সাবেক নেতারা

রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, আড়ত, ঘাট, পশুর হাট, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, এসব অবৈধ অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে থাকা ইট, বালু ও পাথরের গদিগুলো থেকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এসব গদিতে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক থেকেও ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। শুধু তা-ই নয়, নদীপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে গিয়ে ‘শুল্কের’ নামে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গদিঘর, পণ্যবাহী ট্রাক ও গাবতলী পশুর হাটের সামনের দোকান থেকে মাসে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা আদায় হয়। শাহ আলী মাজারের আড়ত কমপ্লেক্স ও বাইরের জায়গা থেকে ওঠে আরও ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে নৌপথ, বাস টার্মিনাল ও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ব্যবসায়ীর ভাষ্য, পাপেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও হাফিজুল হাসান ওরফে শুভ্র। তাঁদের অনুসারীদের মাধ্যমে পশুর হাট, কাঁচাবাজার, ঘাট, গদি ও পরিবহন স্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত মাসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও এই চারজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হানিফ। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শুভ্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কোনো সাংগঠনিক কমিটিতে না থাকায় পাপেল ও লেলিনের বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ তাঁদের খুঁজছে।

শুভ্র দাবি করেছেন, তিনি ব্যবসা করেন; দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। রাড্ডার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে বলে তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাপেল, লেলিন ও হানিফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। পাপেল ও লেলিনের হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হানিফ ফোন ধরেননি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা পলাতক এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গদি, ট্রাক ও দোকান থেকে মাসে ৩৫ লাখ টাকা

গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পানির পাম্প বা স্লুইসগেট পর্যন্ত প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে শতাধিক অবৈধ গদিঘর রয়েছে বলে জানিয়েছে গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি। এসব গদিঘরের বেশির ভাগ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে অবস্থিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইট-বালুর পাঁচ ব্যবসায়ী ও তিন কর্মচারী জানান, প্রতিটি গদিঘর থেকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক গদিঘর থেকে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা আদায় হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, এই অর্থ আদায়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্যামল আহমেদ ওরফে রাসেল। পাপেল চক্রের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে শ্যামল আহমেদ দাবি করেছেন, তিনি কোনো দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজ করতেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর ভাই আইয়ুব আলী দারুস সালাম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। এতে ইসমাইলের প্রভাবও বহাল রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

ইসমাইল মোল্লা অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন, তবে দলটিতে তাঁর কোনো পদ নেই।

গদিঘরগুলোর কাছ থেকে টাকা তোলার কাজটি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমিতে থাকা প্রায় ৩০০ প্লটেও গদিঘর রয়েছে।

গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিআইডব্লিউটিএ প্রতি দেড় হাজার বর্গফুটের জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা শুল্ক নেয়। অন্যদিকে ডিএনসিসির প্লটগুলোর ইজারা চেয়ে আবেদন করা হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, গাবতলীতে করপোরেশনের জমিতে অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসার বিষয়ে দুই মাস আগে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবসা করছেন, কতটি দোকান রয়েছে এবং কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইট-বালু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, অবৈধ গদির পাশাপাশি ওই ৩০০ প্লটের গদিতে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক থেকেও টাকা নেওয়া হয়। ছয় চাকার ট্রাক থেকে ২৫০ টাকা এবং ১০ চাকার ট্রাক থেকে ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়।

একই এলাকায় গাবতলী পশুর হাটের সামনের অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান থেকেও মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব দোকান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করে একই চক্র।

নৌপথে ‘শুল্কের’ নামে টাকা আদায়

গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সিন্নিরটেক হয়ে আশুলিয়াগামী নৌপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী নৌযান থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চলন্ত নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে গিয়ে এই অর্থ আদায় করা হয়।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম তদারক করেন ইব্রাহিম খলিল, ইসমাইল হোসেন ও জহুরাবাদের বাবুল। ইসমাইল ও বাবুল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও টাকা তুলতেন। বর্তমানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মিলে এই অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ব্যবস্থাকে ‘প্যাকেজ’ বলে থাকেন।

ইসমাইল ও বাবুল গত অর্থবছরে ওই নৌপথের বৈধ শুল্ক ইজারাদার ছিলেন বলে দাবি করে থাকেন। তবে চলতি অর্থবছরে তাঁদের অর্থ আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, আগের ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে মামলা করায় চলতি অর্থবছরে নতুন দরপত্র আহ্বান ও ইজারাদার নিয়োগ করা হয়নি। তবে আগের দর অনুযায়ী প্রতি মাসে আদায় করা টাকা ইব্রাহিম ও বাবুলরা পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এই কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী পণ্য খালাসের স্থানে ইজারাদার শুল্ক আদায় করবেন। চলন্ত নৌযান থেকে এভাবে শুল্ক আদায়ের সুযোগ নেই।

বর্তমানে কাগজপত্রে কোনো ইজারাদার না থাকলেও সিন্নিরটেক ঘাটে ‘শুল্ক’ আদায়কারী কর্মী আম্বর আলী গত মঙ্গলবার বলেন, নৌযানের আকার অনুযায়ী এক থেকে দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। তিনি ইজারাদার হিসেবে পাপেল, রাসেল ও পারভেজের নাম উল্লেখ করেন।

তবে তীরে পণ্য খালাস করা নৌযানের চালক ও কর্মীদের দাবি, বাস্তবে প্রতিটি পণ্যবাহী নৌযান থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ও আদায়কারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এ পথে ১০০ থেকে ১৫০টি নৌযান চলাচল করে। প্রতিদিন ১০০টি নৌযান থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করা হলে মাসে অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ টাকা। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত আদায়ের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা বলেন, পাথর, কয়লা ও বালুর বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ প্রতি ঘনফুটে সমান ৬০ পয়সা শুল্ক নির্ধারণ করেছে। এতে নৌযানমালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ইজারাদারেরা এর সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত প্রতিটি নৌযান থেকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালী মালিকদের নৌযান থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়।

বাস টার্মিনাল ও ট্রাকস্ট্যান্ডেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গাবতলী বাস টার্মিনাল এখন দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজের নিয়ন্ত্রণে। রাড্ডার ঘটনার পর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, টার্মিনালের বৈধ কাউন্টার ও দোকানের বাইরে হকার এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে পারভেজের লোকজন টাকা আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা মাসুদ এবং থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন ওরফে রিপন। সম্প্রতি তাঁরা সেখানে সাতটি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ডিএনসিসির পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খালি কাউন্টার না থাকায় আবেদনকারীদের নিজ খরচে কাউন্টার নির্মাণের অনুমতি দিয়ে পরে সেগুলো অনুমোদন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজেদের পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েকটি কাউন্টার নির্মাণ করেছেন। অন্য কাউন্টারগুলো এককালীন অর্থের বিনিময়ে অন্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে গোলাম রসুল পারভেজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মির্জা মাসুদ বলেন, নিজের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মির্জা এন্টারপ্রাইজের জন্য করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অর্থে কাউন্টার নির্মাণ করেছেন। ইকবাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান ঢাকা নাগরপুর লিংক লিমিটেডের নামেও একটি কাউন্টার বরাদ্দ হয়েছে।

বাস টার্মিনালের কাছে ডিএনসিসির বর্জ্যবাহী গাড়ি রাখার স্থান বা যান্ত্রিক শাখার পেছনে করপোরেশনের জমিতে একটি অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড রয়েছে। এটি আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সহসভাপতি সালেক পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিন ও রাতে পালা করে সেখানে ১৬০ থেকে ১৭০টি ট্রাক রাখা হয়। প্রতিটি ট্রাক থেকে মাসে দেড় হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ১৬০টি ট্রাক হিসাবে মাসিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সালেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যেভাবে প্রভাব বাড়ে

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাবতলী ও মিরপুর-১ এলাকায় দখল ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও তাঁর অনুসারীদের হাতে। ২০২১ সালে আসলামুল হকের মৃত্যুর পর এসব কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেন যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিলের অনুসারীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর তাঁর অনুসারীদের প্রভাব কমতে থাকে। একপর্যায়ে পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন অবৈধ আয়ের উৎসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাড্ডার ঘটনার পর দলীয় প্রধানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাপেল ও তাঁর সহযোগীরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মগোপনে থাকলেও চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, পরিচয়-নির্বিশেষে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুরে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে কিংবা আগে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন