ঢাকা,  মঙ্গলবার
২০ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

পদত্যাগের খবরকে ‘গুজব’ বলে রাতে একের পর এক কী বার্তা দিয়েছিলেন ইশরাক

প্রকাশিত: ১২:১২, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:১৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পদত্যাগের খবরকে ‘গুজব’ বলে রাতে একের পর এক কী বার্তা দিয়েছিলেন ইশরাক

ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেন তিনি। অথচ আগের রাতে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর একের পর এক ফেসবুক পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দিয়ে সেই সংবাদকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রেস কর্মকর্তাও সংবাদটিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

সকাল ৯টা ৮ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া গ্রুপে দেওয়া এক অডিও বার্তায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বেলা দুইটায় প্রেসক্লাবে, একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে আমার যে চূড়ান্ত ঘোষণাটি, যেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কনভে করেছেন, সেটি আমরা ঘোষণা দেব।’

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তবে গতকাল রাতে প্রথম আলোতে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পরপরই তা অস্বীকার করেন ইশরাক। রাত ১০টা ২২ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া গ্রুপে দেওয়া এক অডিও বার্তায় তিনি সংবাদটিকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ বলে উল্লেখ করেন। ইশরাক বলেন, ‘দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত যদি দল থেকে আমরা নেই, তাহলে সেটি অবশ্যই উড়োখবরের মাধ্যমে আসবে না।’

এর দুই মিনিট পর, রাত ১০টা ২৪ মিনিটে, তাঁর প্রেস কর্মকর্তা একই গ্রুপে সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে প্রথম আলোর খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিটি ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই ফেসবুক পেজে প্রকাশিত আরেকটি বার্তায় দাবি করা হয়, ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সঠিক নয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও বার্তায় দাবি করা হয়।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া গ্রুপে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া আরেক অডিও বার্তায়ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান ইশরাক হোসেন।

এ সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে রাত ১০টা ৫১ মিনিটে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা লেখেন, ‘দু-একটি গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতার ঘটনায় তিনি ভিডিও বার্তা দিয়ে বক্তব্য প্রদানকে গুরুত্ব মনে করেন না।’ এ বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন হলে ইশরাক সরাসরি ও খোলামেলাভাবে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনেও (বিটিভি) তা স্ক্রল আকারে প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় বিটিভির সমালোচনা করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আরেকটি বার্তা দেন ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা।

ওই বার্তায় বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা ছাড়াই মন্ত্রিসভার একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মতো স্পর্শকাতর খবর স্ক্রলে প্রচার করে বিটিভি গুরুতর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এটি সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ভুল তথ্য প্রচারের পর নীরব থাকা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমটির পেশাদারত্বকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দাবি করা হয়।

পরে বিটিভি আগের স্ক্রল বন্ধ করে নতুন স্ক্রল প্রচার শুরু করে। সেখানে বলা হয়, ইশরাক হোসেন পদত্যাগের খবর অস্বীকার করছেন।

তবে রাতভর পদত্যাগের খবর অস্বীকার করার পর সোমবার সকালে নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানালেন ইশরাক হোসেন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর চূড়ান্ত বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন