নানজীবা তোরসা
অর্থ, ক্ষমতা, আধিপত্য ও সংঘাত—মিরপুরের ঝুটপট্টির অচেনা জগৎ উঠে এসেছে তরুণ নির্মাতা ইফ্ফাত জাহানের সিনেমা ‘কাট–পিস’-এ। আগামী ১৬ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটিতে মালা নামে মিরপুরের এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন নানজীবা তোরসা। নিজের স্বভাবের সঙ্গে চরিত্রটির বেশ পার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তোরসা বলেন, ‘মালা আর তোরসা একেবারেই আলাদা। তোরসা খুব স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড (স্পষ্টবাদী)। সিনেমার গল্প যেহেতু মিরপুরের, মালাও ছোট থেকে সেখানে বড় হয়েছে। সে খুব চঞ্চল, একটু সিনেম্যাটিক, আবার কিছুটা লাজুকও। প্রেমে পড়লে যেমন হয়, তেমন একটা ব্যাপার আছে তার মধ্যে। আবার সে ধমক দিয়েও কথা বলে। মালা একেবারে আঞ্চলিক টানে কথা বলে।’
চরিত্রটি নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তোরসা। শুধু বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, মালা চরিত্রটি মানুষ মনে রাখতে পারবে।’
‘কাট–পিস’ সিনেমায় একজন ঝুট ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিফাত আমিন। খল চরিত্রে রয়েছেন ইমরান আহমেদ সওদাগর। সিনেমার গল্প সম্পর্কে তোরসা বলেন, ‘গল্পটা খুবই বাস্তবধর্মী। একজন বাস্তব ঝুট ব্যবসায়ীর জীবনকে কেন্দ্র করে এটি তৈরি হয়েছে। তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়েই গল্প। সিন্ডিকেট ও নানা ধরনের দ্বন্দ্বের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁরা সিনেমাটির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারবেন। এসব ঘটনার প্রভাব তাঁদের ভালোবাসার মানুষ ও পরিবারের ওপর কীভাবে পড়ে, সেটিও দর্শক বুঝতে পারবেন।’
হঠাৎ করেই সিনেমাটিতে যুক্ত হন তোরসা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিচালকের (ইফ্ফাত জাহান) সঙ্গে আগে একটা কাজ নিয়ে কথা হয়েছিল। একদিন তিনি বললেন, একটা সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চান, আমাকে প্রস্তুত হয়ে দেখা করতে হবে। আমি গেলাম। তখন পুরো সিনেমার গল্প শোনানো হয়নি। বলা হয়েছিল, গল্পটা গোপন থাকবে। শুধু আমার চরিত্রটা সম্পর্কে বলা হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, এ ধরনের চরিত্রে তো আগে কখনো অভিনয় করিনি। তাই কাজটা করা যায়।’
সিনেমার নাম নিয়েও মজার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তোরসা। কেউ কেউ তাঁকে প্রশ্ন করছেন, ‘কাট–পিস’ সিনেমায় কাটপিস দৃশ্য আছে কি না। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাটপিসের অন্য কোনো অর্থ আছে, জানতাম না। সিনেমার নামটা যখন শুনলাম, তখন বিষয়টি বুঝিনি। পরে যাঁরাই নামটা জেনেছেন, তাঁরাই মজা করে জিজ্ঞেস করেছেন, কাটপিস কেন? তখন জানতে পারলাম, শব্দটির অন্য একটা অর্থও আছে।’
তবে সিনেমার নামের সঙ্গে গল্পের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানান তিনি। তোরসার ব্যাখ্যা, ‘এখানে কাটপিস বলতে মূলত জুটের কাপড়ের যে উচ্ছিষ্ট অংশগুলো থেকে যায়, সেগুলোকে বোঝানো হয়েছে। সেই কাপড় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। মারামারি, প্রেম—এ রকম অনেক কিছু। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁদের জীবনে যে ক্ষত তৈরি হয়, সেটিই মূলত সিনেমার নামের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত।’
এদিকে তোরসার বিয়ে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও আলোচনায় এসেছে। বছরের শুরুতে ‘মাটি’ নামে একটি সিনেমার শুটিং করেন তিনি। এর মধ্যে গুঞ্জন ছড়ায়, সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত একজনের সঙ্গে নাকি বিয়ে সেরে ফেলেছেন অভিনেত্রী। পরিচিত অনেকেই তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান।
বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে হাসতে হাসতে তোরসা বলেন, ‘গুঞ্জনটি আমিও শুনেছি। লন্ডনে থাকা এক আত্মীয়ের কাছেও গুঞ্জনটা পৌঁছায়। তিনি ফোন করে আমাকে বলেন, “তুই নাকি বিয়ে করে ফেলেছিস!” আমি বললাম, হ্যাঁ, পাত্র কে, সেটা তো আমি নিজেও জানি না।’
গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ে করলে আপনারা সবাই জানতে পারবেন। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। এটা নিয়ে লুকানোরও কিছু নেই।’
২০১৯ সালের অক্টোবরে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হয়ে পরিচিতি পান নানজীবা তোরসা। ২০২১ সালে ‘স্বপ্ন তোমার জন্য’ টেলিছবির মাধ্যমে ছোট পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। চার বছরের ক্যারিয়ারে তাঁকে ‘কাহিনি অরিজিনাল প্ল্যান বি’তে দেখা গেছে। ‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’ গানের ভিডিওতে মডেল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ‘মাটি’ ছাড়াও ‘নির্জন স্বাক্ষর’ নামে আরেকটি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন তোরসা। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাও করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তোরসা জানান, প্রায় তিন বছর আগে কলকাতায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে কলকাতায় কাজ শুরুর আগে ঢাকার সিনেমায় অভিনয় করতে চেয়েছিলেন। সে কারণে তখন প্রস্তাবটি নিয়ে আর এগোনো হয়নি। ঢাকায় কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার পর এবার কলকাতায়ও কাজ করার কথা ভাবছেন তিনি।
তোরসার ভাষায়, ‘এখন মনে হয়, আমি একটু এক্সপ্যান্ড করতে পারি। বাংলাদেশের বাইরেও কাজ করতে পারি। তবে কীভাবে এগোব, সেটা এখনো ভাবিনি।’



.png)
.png)