ঢাকা,  বুধবার
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

‘অটবি’তে নতুন রূপে মধুমিতা, কাজের চেয়ে এখন পরিবারকেই বেশি সময় দিতে চান

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অটবি’তে নতুন রূপে মধুমিতা, কাজের চেয়ে এখন পরিবারকেই বেশি সময় দিতে চান

মধুমিতা সরকার

ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিন এক ধাঁচের কাজ করার পর এবার নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। গতানুগতিক ছক থেকে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের দিকেই এখন তার মূল মনোযোগ। ‘অটবি’ চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।

‘অটবি’ সিনেমায় নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মধুমিতা বলেন, ‘এতদিন দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে এসেছেন, এই ছবিতে একেবারেই তেমনটা পাবেন না। চরিত্রটির ভেতরে গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে, যা প্রথম থেকেই আমাকে আকর্ষণ করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো পরিচালক যে আমাকে এমন একটি জটিল চরিত্রে কল্পনা করতে পেরেছেন, এটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারণ একজন শিল্পী হিসেবে আমি এক জায়গায় আটকে থাকতে চাই না।’

কাজের পাশাপাশি পরিবারকেও দিতে চান সময়

একসময় কাজের পেছনে নিরবচ্ছিন্ন সময় দিলেও বর্তমানে নিজের জীবনধারা ও ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে মধুমিতার। কাজের চাপ কমিয়ে এখন বেছে বেছে কাজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, অতিমাত্রায় কাজের কারণে অতীতে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বাবা-মাকে সময় দেওয়ার বিষয়টি এখন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মধুমিতার ভাষ্য, ‘বাবা-মা সবসময়ই আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অগ্রাধিকার বদলায়—এটা আমি উপলব্ধি করেছি। শুধু পেশাগত সাফল্যই জীবন নয়; যাদের আমরা ভালোবাসি, সেই প্রিয় মানুষ ও পরিবারের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়াকেই গুরুত্ব

ব্যক্তিগত সম্পর্কের মূলভিত্তি নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক। তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গভীর বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সঙ্গতি থাকা জরুরি।

‘অটবি’ সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মধুমিতা জানান, শারীরিক ও মানসিক অভিব্যক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে বদলেছেন অভিব্যক্তি

চরিত্রটির অস্বাভাবিক রূপ ফুটিয়ে তুলতে চোখের দৃষ্টি ও শরীরের ভাষায় বৈচিত্র্য আনতে হয়েছে মধুমিতাকে। দৃশ্যায়ন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের প্রায় ১৭-১৮ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ভক্তদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন মধুমিতা। একই সঙ্গে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক সমালোচনাকেও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে চান তিনি।

‘মধুমিতা কোথায়?’—দর্শকের এই প্রশ্নই প্রাপ্তি

দর্শকদের উদ্দেশ্যে মধুমিতা বলেন, ‘আমি একটু আড়ালে গেলে যখন দর্শক প্রশ্ন তোলেন, “মধুমিতা কোথায়?”, তখন মনে হয় এটাই আমার প্রাপ্তি। তবে শুধু প্রশংসাই নয়, আমার ভুলগুলোও দর্শক ধরিয়ে দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দর্শক আমার কাজ পছন্দ হলে যেমন ভালোবাসবেন, ভুল হলে সমালোচনাও করবেন—তাদের এই যুক্ততাই আমার কাছে সবচেয়ে অর্থবহ।’

Advertisement
Advertisement