ঢাকা,  বুধবার
২৯ মে ২০২৪

Advertisement
Advertisement

ডেঙ্গুতে মৃত বড় বোনের বেডে জায়গা হয়েছে ছোট বোনের

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপডেট: ০৯:১০, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ডেঙ্গুতে মৃত বড় বোনের বেডে জায়গা হয়েছে ছোট বোনের

ডেঙ্গু

বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাহেনা খাতুন। তার স্বামী আলমগীর হোসেন একজন ঠিকাদার। তাদের ঘর আলো করে রাখতো দুই মেয়ে আট বছর বয়সী আফিয়া আঞ্জুম ছয় বছর বয়সী তাসনিয়া তাসনিম। কিন্তু তাদের সেই ঘরে অসময়ে যেন নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে তাদের বড় মেয়েকে। ছোট মেয়ে সেই একই বেডে চিকিৎসাধীন।

গত সেপ্টেম্বর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয় বড় মেয়ে আফিয়ার। অনেক বেশি ঠান্ডা দুর্বলতা দেখা দেয়। একদিন পরেই নেওয়া হয় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে। প্রথমে হাসপাতালের বেডে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একদিন পর একই হাসপাতালে ভর্তি হয় তার ছোট বোন তাসনিয়া তাসনিম। অন্যদিকে শক সিন্ড্রোমে চলে যায় আফিয়া। কমে যায় রক্তচাপ। হাসপাতাল থেকে বলা হয় শিশুদের বিশেষ কেয়ার ইউনিট পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআসিইউ) নিতে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে দিতে গলা ধরে আসছিল আফিয়া-তাসনিয়ার বাবা মো. আলমগীর হোসেনের। তিনি জানান, বড় মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে চিকিৎসক পিআইসিইউর কথা বলেন। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করতে থাকলেও কোথাও পিআইসিইউ পাচ্ছিলাম না। একপর্যায়ে এক লোকের মাধ্যমে জানতে পারি ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে পিআইসিইউ আছে। বড় মেয়েকে সেখানে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তবে এই হাসপাতালের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।

আরও পড়ুন: মোরগের দাম ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা!

বাবা-মা দুজনই একবার ঢাকা হেলথ কেয়ার একবার শিশু হাসপাতালে দুই মেয়ের দেখাশোনায় দৌড়াচ্ছিলেন। এর মধ্যে চেষ্টা করতে থাকেন শিশু হাসপাতালের পিআইসিইউর জন্য। অনেক রিকোয়েস্ট চেষ্টার পর শিশু হাসপাতালে পিআইসিইউ ম্যানেজ হয়। আফিয়ার জায়গা হয় পাঁচ নম্বর বেডে। এর আগে বেসরকারি ওই হাসপাতালে একদিনেই ৫০ হাজার টাকা বিল দিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর বড় মেয়েকে আনেন শিশু হাসপাতালে। তবে দিন দিন অবনতি হতে থাকে তার শারীরিক অবস্থার।

চিকিৎসকরা এক পর্যায়ে নরমগ্লোবিন নামে ইনজেকশনের ব্যবস্থা করতে বলেন। তবে অনেক খুঁজেও প্রয়োজনীয় আটটি ইনজেকশন পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসকরা নিষেধ করে দেন আর খুঁজতে এবং মেয়েকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় আফিয়ার মৃত্যু হয়।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, পিআইসিইউর বাইরে একটি বেঞ্চে মাথা রেখে চোখ বুজে শুয়ে আছেন রাহেনা খাতুন। বড় মেয়ের শোকে পাগলপ্রায় তিনি। ঠিকমতো পারছিলেন না কথা বলতে। ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন।

আরও পড়ুন: ছোট ছেলের লাশ হিমঘরে রেখে বড় ছেলেকে আইসিইউতে দেখতে যান মা

পাশেই বসে থাকা আফিয়া-তাসনিয়ার বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ছোট মেয়ে ভর্তি ছিল হাসপাতালের ওয়ার্ডে। তারও শরীরে প্লাটিলেট কম ছিল। হাসপাতালে বলেছি এক মেয়েকে হারিয়েছি, সেই বেডেই আমার ছোট মেয়েকে রাখার ব্যবস্থা করে দিন। এরপর থেকে বড় মেয়ের সেই পিআইসিইউ বেডেই চিকিৎসা নিচ্ছে তাসনিয়া।

Advertisement
Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /mnt/volume_sgp1_05/p1kq0rsou/public_html/details.php on line 531