ঢাকা,  বুধবার
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য খাবার-ব্যায়ামের পাশাপাশি জরুরি ভালো ঘুম

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য খাবার-ব্যায়ামের পাশাপাশি জরুরি ভালো ঘুম

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন

সুস্থ থাকতে ভালো খাবার খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্বের কথা কমবেশি সবাই জানেন। তবে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আয়ুর সঙ্গে ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি খাবার ও ব্যায়ামের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে গবেষণায়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে স্লিপ অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এটি পরিচালনা করেছেন।

ঘুমের সঙ্গে আয়ুর সম্পর্ক

গবেষকেরা ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এরপর মানুষের গড় আয়ুর সঙ্গে তাদের ঘুমের সময়ের সম্পর্ক মিলিয়ে দেখেন।

গবেষণায় রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুমকে অপর্যাপ্ত ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর গবেষকেরা ব্যায়াম না করা, চাকরি ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন বিষয়ও হিসাবের মধ্যে নেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা যায়, কম ঘুমের সঙ্গে কম আয়ুর সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণার শুরুতে মানুষের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন বিভিন্ন বিষয় আলাদাভাবে তুলনা করা হয়। প্রথমে কম ঘুম ও ধূমপানের প্রভাব পর্যালোচনা করেন গবেষকেরা। এতে দেখা যায়, কম ঘুমের তুলনায় আয়ুর সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক বেশি শক্তিশালী।

পরে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের বিষয়ও বিশ্লেষণে যুক্ত করা হয়। তখন দেখা যায়, কম আয়ুর সঙ্গে কম ঘুমের চেয়ে স্থূলতার সম্পর্ক বেশি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘুমের বিষয়টি গুরুত্বহীন। বরং কম ঘুমের সঙ্গে আয়ুর যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকও অবাক

ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ঘুমবিষয়ক গবেষক অ্যান্ড্রু ম্যাকহিল বলেন, কম ঘুমের সঙ্গে আয়ুর সম্পর্ক এতটা শক্তিশালী হবে, তা তিনি আগে ভাবেননি।

তিনি বলেন, ঘুম গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা তাঁরা সব সময়ই জানতেন। তবে এই গবেষণা বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করেছে। তাঁর পরামর্শ, সম্ভব হলে প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।

ঘুমের অভাবে কী হতে পারে?

ঘুম শুধু শরীরের ক্লান্তি দূর করে না; শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক রাত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

আর দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বিশেষভাবে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। এসব সমস্যার সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের সঙ্গে কম আয়ুরও সম্পর্ক রয়েছে।

ম্যাকহিল বলেন, ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি জানেন। তারপরও পর্যাপ্ত ঘুম ও আয়ুর মধ্যে এত শক্তিশালী সম্পর্কের বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে।

রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম

আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন এবং স্লিপ রিসার্চ সোসাইটিও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়।

তাই রাতে বিছানায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার অভ্যাস কমানো ভালো। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা তাই চি ঘুমের মান উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে।

ম্যাকহিলের ভাষায়, খাবার ও ব্যায়ামকে মানুষ যতটা গুরুত্ব দেয়, ঘুমকেও অন্তত ততটাই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement
Advertisement