ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এখনো সাফল্য না এলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার এই সম্মানজনক পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটি তাঁকে পুরস্কার দেবে কি না, তা তিনি জানেন না। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।
পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে। আমার মতো মানুষদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না, এমন একটা সুনাম তাদের রয়েছে।’
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কারকে নিজের প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ‘এখনই এর উপযুক্ত সময়।’
এর আগে পরোক্ষভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত বছরের বিজয়ীর কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি বলেছিলেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ এই পুরস্কারের যোগ্য নন।
ট্রাম্প যে ব্যক্তির কথা বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মারিয়া কারিনা মাচাদো। গত জানুয়ারিতে তিনি তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। এর আগে ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মাচাদো।
আটটি সংঘাত থামানোর দাবি
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ ও সংঘাত থামানোর দাবি করেছেন ট্রাম্প। এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর রয়েছে।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারাও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প যেসব সংঘাত থামানোর দাবি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটির পক্ষই তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কয়েকটি অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতও ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখনো সেই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে, যা আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থায় ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কারা আছেন আলোচনায়?
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের আলোচনায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ দূতের নাম রয়েছে।
তবে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত কে পুরস্কারটি পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত নয়।



.png)
.png)