ঢাকা,  শনিবার
০৭ নভেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকট, পাশে আরব দলগুলো

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকট, পাশে আরব দলগুলো

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকট

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থনের কথা জানান। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেও তাদের সঙ্গে সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। ফলে সরকার গঠনের প্রাথমিক সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আর কেউ এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

তবে সরকার গঠনের পথ এখনো বেশ কঠিন। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে ইহুদি নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। বিরোধী শিবিরের সবাই আইজেনকটকে সমর্থন দিলেও ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি হয়নি।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান তাঁরা।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বৈঠকে আব্বাস সরাসরি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার উদ্যোগ নিলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ এবং রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি জানান, তাঁদের দল সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে মাত্র এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। আগামী নেসেটে দলটির ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সংকট

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। ফলে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বিপরীতে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটের সামনে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপর নির্বাচন করা হবে নতুন স্পিকার। এর মধ্যেই সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলবে।

তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে আইজেনকটের দল ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেও শেষ পর্যন্ত ইহুদি দলগুলোর আপত্তি কীভাবে সামাল দেন, সেটিই হয়ে উঠতে পারে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন