ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৩ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

অমনোযোগী শিশুকে বকাঝকা নয়, একাগ্রতা বাড়াতে জাপানিদের ৩ কৌশল

প্রকাশিত: ১২:২১, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অমনোযোগী শিশুকে বকাঝকা নয়, একাগ্রতা বাড়াতে জাপানিদের ৩ কৌশল

জাপানি শিশু

অমনোযোগী বা অবাধ্য আচরণ করলে অনেক মা–বাবাই সন্তানকে বকাঝকা করেন। কিন্তু শাসন বা শাস্তির পরিবর্তে ধৈর্য, নিয়মকানুন ও ইতিবাচক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব। জাপানে শিশুদের শৃঙ্খলা, একাগ্রতা ও শিষ্টাচার শেখানোর ক্ষেত্রে এমন কিছু পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল মিডিয়া ওয়েবসাইট আপওয়ার্দিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখিকা সেসিলি নোবলা এ বিষয়ে তিনটি কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এসব পদ্ধতি অনুসরণ করে মা–বাবা সন্তানকে বকাঝকা না করেও প্রয়োজনীয় আচরণ ও দক্ষতা শেখাতে পারেন।

১. সন্তানের সামনে নিজেই আদর্শ হয়ে উঠুন

জাপানিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস হলো, শিশুরা দেখে শেখে। বিশেষ করে মা–বাবার আচরণ তাদের ব্যক্তিত্ব ও অভ্যাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সন্তানকে শান্ত, বিনয়ী ও সংযত করতে চাইলে আগে নিজেদের আচরণে সেই গুণগুলোর চর্চা করতে হবে।

যেমন, রেগে গেলে সন্তানের ওপর চিৎকার না করে নিজেকে শান্ত রাখুন। শিশুরা ভুল করলে তাৎক্ষণিকভাবে বকাঝকা না করে ধৈর্য ধরুন। রাগ কমে গেলে তাকে কাছে ডেকে ভালোবাসার সঙ্গে ভুলটি বুঝিয়ে বলুন এবং এর পরিণতি সম্পর্কে ধারণা দিন।

মা–বাবা যদি প্রতিনিয়ত রাগের সময় চিৎকার করেন, তাহলে শিশুও একই আচরণ শিখতে পারে। তাই শুধু উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের আচরণের মাধ্যমে সন্তানকে সঠিক উদাহরণ দেখানো জরুরি।

২. স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করুন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন

শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট রুটিন ও স্পষ্ট নিয়মকানুন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কী করতে হবে এবং কখন করতে হবে, তা আগে থেকে জানা থাকলে তারা নিরাপদ বোধ করতে পারে। অন্যদিকে, নিয়মের অনিশ্চয়তা তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

যেমন, ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, খাওয়ার সময় মুঠোফোন ব্যবহার না করা কিংবা খেলাধুলার পর খেলনা গুছিয়ে রাখার নিয়ম তৈরি করা যেতে পারে।

তবে শুধু নিয়ম তৈরি করলেই হবে না, মা–বাবাকেও ধারাবাহিকভাবে তা অনুসরণ করতে হবে। কখনো একই আচরণের জন্য শাস্তি দেওয়া, আবার কখনো উপেক্ষা করা হলে শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই নিয়মগুলো সহজ, স্পষ্ট ও বয়সের উপযোগী হওয়া প্রয়োজন।

৩. দুষ্টুমিকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন

শিশুর অবাধ্যতা বা দুষ্টুমিকে কেবল শাস্তি দেওয়ার কারণ হিসেবে না দেখে, তার কোন দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। জাপানি শিশু প্রতিপালনের আলোচনায় এই দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যেমন, কোনো কিছু না পেয়ে শিশু কান্নাকাটি বা জেদ করলে তাকে বকাঝকা না করে হতাশা সামলানোর কৌশল শেখান। একই খেলনা নিয়ে একাধিক শিশু ঝগড়া করলে তাদের পালা করে খেলতে এবং অপেক্ষা করতে শেখান।

‘এটা কোরো না’ বলার পাশাপাশি কী করা উচিত, সেটিও বুঝিয়ে দিন। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য, ভাগাভাগি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

এই পদ্ধতির মূল কথা হলো, ভুলের জন্য শুধু শাস্তি না দিয়ে ভুল থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করা। এতে শিশুর আচরণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

শাসন নয়, শেখানোর দিকে মনোযোগ

শিশুকে শৃঙ্খলাবোধ ও একাগ্রতা শেখানোর জন্য মা–বাবার ধৈর্য, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব শিশুর আচরণ ও শেখার ধরন এক নয়। তাই সন্তানের বয়স, প্রয়োজন ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা উচিত।

বকাঝকা বা ভয় দেখানোর পরিবর্তে আদর্শ আচরণ, স্পষ্ট নিয়ম এবং ইতিবাচক নির্দেশনার মাধ্যমে শিশুকে শেখানোর চেষ্টা করলে তার আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ গড়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

Advertisement
Advertisement