ঢাকা,  রোববার
১১ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

‘কেউ মারা গেলে তার অপরাধ মুছে যায় না’, নানাকে ক্ষমা করছেন না তনুশ্রী

প্রকাশিত: ১৬:১২, ১০ অক্টোবর ২০২৬

‘কেউ মারা গেলে তার অপরাধ মুছে যায় না’, নানাকে ক্ষমা করছেন না তনুশ্রী

নানাকে ক্ষমা করছেন না তনুশ্রী

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ভারতের #MeToo আন্দোলনে আলোচনায় আসেন তিনি। এবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে নিজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন তনুশ্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কারও মৃত্যু হলেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা মুছে যায় না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তনুশ্রী। তাঁর দাবি, #MeToo আন্দোলনের পর থেকে তাঁকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি আবারও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতে #MeToo আন্দোলন নতুন করে গতি পায়। তবে নানা পাটেকর বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তনুশ্রী দাবি করেন, #MeToo আন্দোলনের পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন ব্যাপকভাবে বদলে যায়। আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করতেন এবং নির্ভয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর থেকে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে।

তনুশ্রীর ভাষায়, ‘#MeToo-র পর আমার সঙ্গে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যা ইনস্টাগ্রামে বলতেও পারব না। মানুষ জানে না, আমাকে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

২০২৪ সালে কেউ তাঁর গাড়ির ব্রেক কেটে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, #MeToo আন্দোলনের পর থেকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় অনুসরণ করত। একাধিকবার নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনেকে বার্তা পাঠাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তনুশ্রী। তবে তাঁর বক্তব্য, নানা পাটেকর কখনোই তাঁর কাছে ক্ষমা চাননি।

এ প্রসঙ্গে তনুশ্রী বলেন, ‘কেউ মারা গেছেন বলে তাঁর জীবনের সব অপরাধ মুছে যায় না। তিনি যাদের হয়রানি করেছেন, যাদের ভুক্তভোগী করেছেন, তাঁদের হিসাব কি এখানেই শেষ হয়ে যায়?’

তনুশ্রীর মতে, কোনো অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাইতে হলে প্রথমে নিজের ভুল স্বীকার করতে হয়। অন্যায়ের দায় স্বীকার না করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অর্থবহ হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরপরই প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তনুশ্রী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়ে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হয়েছে তাঁকে।

২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর অভিযোগ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই দেশটিতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি এবং নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

নানা পাটেকর অভিযোগ অস্বীকার করলেও তনুশ্রী বারবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অভিনেতার মৃত্যুর পরও পুরোনো অভিযোগ ও #MeToo আন্দোলনের প্রভাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Advertisement
Advertisement