ঢাকা,  শনিবার
২৪ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

তরুণ মস্তিষ্কের বড় সুবিধাই হতে পারে বড় বিপদ!

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:২০, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তরুণ মস্তিষ্কের বড় সুবিধাই হতে পারে বড় বিপদ!

তরুণ মস্তিষ্কের যে সক্ষমতা তাকে সহজে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে, সেই সক্ষমতাই আবার মস্তিষ্কের আঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী অস্বাভাবিক স্নায়বিক নেটওয়ার্কে রূপান্তরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তরুণ মস্তিষ্ক নমনীয়। এটি সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং নতুন নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত ধারণা হলো, তরুণ মস্তিষ্কে নিজেকে পুনর্গঠিত করে ক্ষতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।

তবে মস্তিষ্কে আঘাতের পর এই একই নমনীয়তার নেতিবাচক দিকও থাকতে পারে। ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (TBI) বা আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতির ক্ষেত্রে এমনটাই দেখা গেছে নতুন এক গবেষণায়। পড়ে যাওয়া, গাড়ি দুর্ঘটনা, খেলাধুলার সময় আঘাত কিংবা মাথায় কোনো ধরনের আঘাতের কারণে TBI হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Experimental Neurology জার্নালে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম-এর নরেশ কে. ভাশিষ্ট কলেজ অব মেডিসিনের নিউরোসায়েন্স ও এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিকস বিভাগের গবেষক এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক সাম্বা রেড্ডি বলেন, “অনেকে ধরে নিতে পারেন, আঘাতের পর তরুণ মস্তিষ্ক বেশি দ্রুত ও ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের গবেষণার ফলাফল বলছে, বিষয়টি এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল।”

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষ মস্তিষ্কে আঘাতের শিকার হন। এ ধরনের আঘাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির মধ্যে রয়েছে পোস্ট-ট্রমাটিক এপিলেপসি বা আঘাতের পর তৈরি হওয়া মৃগীরোগ। মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পরও এই দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, মস্তিষ্কে আঘাতের পর পোস্ট-ট্রমাটিক এপিলেপসি তৈরির প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তরুণ মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—অন্তত ইঁদুরের ক্ষেত্রে।

রেড্ডি বলেন, “তরুণ মস্তিষ্ককে যে নমনীয়তা আঘাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, সেই একই নমনীয়তা এমন পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে, যা খিঁচুনি সৃষ্টি করতে সক্ষম অস্বাভাবিক স্নায়বিক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।”

তবে তরুণ ইঁদুরের ক্ষেত্রে মৃগীরোগ তুলনামূলকভাবে পরে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু একবার এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তাদের খিঁচুনির মাত্রা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়ে যায়।

অন্যদিকে, বয়স্ক ইঁদুরের ক্ষেত্রে আঘাতের পর তুলনামূলকভাবে দ্রুত খিঁচুনির কার্যকলাপ দেখা গেলেও, সামগ্রিকভাবে তাদের পোস্ট-ট্রমাটিক এপিলেপসি হওয়ার হার এবং খিঁচুনির মাত্রা ছিল কম।

অর্থাৎ, তরুণ মস্তিষ্ক তার সংযোগ ও সংগঠন পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে আঘাতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু একই প্রক্রিয়ায় এমন অস্বাভাবিক স্নায়বিক সংযোগও তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে খিঁচুনি সৃষ্টিকারী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মোটর বা শারীরিক নড়াচড়ার সক্ষমতার ক্ষেত্রে বয়স্ক ইঁদুরই দ্রুত উন্নতি করেছে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে তাদের কিছু নতুন সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

বয়স্ক প্রাণীদের মস্তিষ্কে স্নায়ুর প্রদাহ বা নিউরোইনফ্ল্যামেশনের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক স্নায়বিক সার্কিট পুনর্গঠন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যা বেশি দেখা গেছে।

রেড্ডি বলেন, “বয়স মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারের পথকে পরিবর্তন করেছে; শুধু পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলেছে—বিষয়টি এমন নয়। বয়স্ক মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অন্য ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্মৃতি ও জ্ঞানীয় সক্ষমতার দিক থেকে তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।”

গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, মস্তিষ্কে আঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শুধু আঘাতের ফলে কতটা শারীরিক ক্ষতি হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্ক সেই ক্ষতির প্রতিক্রিয়া কীভাবে সামলায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এটি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে, কেন আপাতদৃষ্টিতে একই ধরনের মস্তিষ্কের আঘাতের পরও দুজন মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।

গবেষণাটি আরও ইঙ্গিত দেয়, মস্তিষ্কের আঘাতের পরিণতি বোঝার ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তরুণ মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ হতে পারে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক ও খিঁচুনি সৃষ্টিকারী স্নায়বিক নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া।

অন্যদিকে, বয়স্ক মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে প্রদাহ, স্নায়বিক সার্কিটের পরিবর্তন এবং স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় সক্ষমতার অবনতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রেড্ডি বলেন, “তরুণ মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এমন চিকিৎসা বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে, যার লক্ষ্য হবে ধীরে ধীরে খিঁচুনি সৃষ্টিকারী নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া ঠেকানো। আর বয়স্ক মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাতের পর স্মৃতিশক্তি হ্রাস, প্রদাহ এবং জ্ঞানীয় সক্ষমতার অবনতির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।”

Advertisement
Advertisement