ঢাকা,  মঙ্গলবার
২০ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক

ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এখন থেকে প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদক নির্মূলে আরও জোরালোভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক। এ ঘটনায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।’

পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এবং আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সম্মত হয়েছেন। সদয় সম্মত হয়েছেন। এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, ঠিক আছে যাও এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।’

সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে পৌঁছান ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শত শত নেতা-কর্মী। প্রেসক্লাবে প্রবেশের পর তাঁকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ। নেতা-কর্মীদের কারও কারও হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়।

বেলা পৌনে দুইটার দিকে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে প্রেসক্লাবের ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন ইশরাক। পরে নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের বেষ্টনীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে যান তিনি। সেখানেও নেতা-কর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দুপুর দুইটায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইশরাক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

ওই পোস্টে ইশরাক লেখেন, ফেসবুকে কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে তাতে যোগ দেন, এমন প্রত্যাশাও জানান তিনি।

পাশাপাশি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন ইশরাক। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক

এর আগে রোববার সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। জানা যায়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে পাঠান এবং সেখানেই পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

তবে খবর প্রকাশের পর রোববার রাতে একাধিক ফেসবুক পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার সংবাদকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক। তাঁর প্রেস কর্মকর্তাও সংবাদটিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এমনকি খবর প্রত্যাহার না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সোমবার সকালে ইশরাক নিজেই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা বলেন।

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে জানা যায়। এর পরপরই ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন