ঢাকা,  রোববার
১৮ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ হিমঘরে, পরিচয় শনাক্তে হবে ডিএনএ পরীক্ষা

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:০৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ হিমঘরে, পরিচয় শনাক্তে হবে ডিএনএ পরীক্ষা

উখিয়ায় রিসোর্ট

কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে। স্বজনেরা মরদেহ নিতে হাসপাতালে ছুটে এলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় এখনই সেগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে না। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কোন মরদেহটি কার, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পরিচয় জানা ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ।

শনিবার সকালে কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত হন এবং দগ্ধ হন আরও ছয়জন। তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকি দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে নিখোঁজ স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সন্ধানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে এসেছেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সাল। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে কক্সবাজারে এসে টুপটুপ রিসোর্টে খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান পাননি। হাসপাতালে মরদেহগুলোর অবস্থা দেখে চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।

দেওয়ান ফয়সাল বলেন, ছয় বছর আগে নাসরিন আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদুর নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, আগুনের পর প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন