ইশরাক হোসেন
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে আটক করতে তৎপর হতেও দেখা গেছে। এ সময় একজনকে গুলি করার হুমকি দেওয়া এবং এক তরুণকে লাথি মারার দৃশ্যও প্রকাশিত ভিডিওতে উঠে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কি অস্ত্র হাতে কাউকে আটক করতে কিংবা পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন?
আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের মতো তল্লাশি, গ্রেপ্তার বা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা পান না। একইভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া যায় না।
কী ঘটেছিল গেন্ডারিয়ায়?
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও কয়েকজনকে আটক করতে এগিয়ে যান। এ সময় একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে এক তরুণকে লাথি মারার দৃশ্যও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরও পুলিশ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে তিনি ও সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেটি হেরোইন কি না, পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার ফল ও তদন্তের আগে আটক ব্যক্তিদের কাছে পাওয়া পদার্থটি মাদক বলে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আইনগত ক্ষমতা কতটুকু?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ ও সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ হলেও তাঁদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংবিধান, সরকারের কার্যবিধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান দিয়ে নির্ধারিত হয়।
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশ কর্মকর্তার মতো তল্লাশি, আটক কিংবা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পান না। এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারায় প্রকাশ্য স্থান বা চলাচলকারী যানবাহন থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং নির্দিষ্ট শর্তে কাউকে আটক ও গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। আইনের ২৩ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তাদের।
এসব বিধানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে আলাদা করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষমতার উল্লেখ নেই। ফলে জনপ্রতিনিধির পদমর্যাদা নিজে থেকেই পুলিশি অভিযান পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার তৈরি করে না।
বৈধ অস্ত্র থাকলেই কি তা উঁচিয়ে দেখানো যায়?
আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকা এবং সেই অস্ত্র যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রদর্শন বা ব্যবহার করার অনুমতি থাকা এক বিষয় নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’-এর ২৫(ক) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আত্মরক্ষার জন্য নিজের অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
অর্থাৎ আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখা এবং সেই অস্ত্র উঁচিয়ে কাউকে ভয় দেখানো বা কাউকে আটক করতে এগিয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই তা দিয়ে পুলিশি অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা তৈরি হয় না।
ইশরাক হোসেনের ঘটনার ক্ষেত্রে তাই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ কি না। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রটি প্রদর্শন ও ব্যবহারের ধরন লাইসেন্সের শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল কি না।
আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র তাক করা কি বৈধ?
বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত। আইনের ৯৬ ও ৯৭ ধারায় নিজের এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যের জীবন, শরীর ও সম্পদ রক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
তবে এই অধিকার সীমাহীন নয়। দণ্ডবিধির ৯৯ ধারায় আত্মরক্ষার ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যতটুকু ক্ষতি করা প্রয়োজন, তার অতিরিক্ত ক্ষতি করার অধিকার নেই। অন্যদিকে, ১০২ ধারা অনুযায়ী, শরীরের ক্ষতির যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হলে আত্মরক্ষার অধিকার শুরু হতে পারে এবং সেই আশঙ্কা যতক্ষণ থাকে, অধিকারও ততক্ষণ বহাল থাকে।
অর্থাৎ, কেউ তাৎক্ষণিক আক্রমণ বা গুরুতর বিপদের মুখে পড়লে আত্মরক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে। কিন্তু কোনো এলাকায় অপরাধ হচ্ছে কিংবা সেখানে বিপজ্জনক অপরাধী রয়েছে—শুধু এ কারণে অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ বলা যায় না।
ইশরাক হোসেনের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি করতে পারেন বলে তিনি অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে ঘটনার সময় তাঁর বা তাঁর সঙ্গীদের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কা কতটা ছিল, তা অস্ত্র প্রদর্শনের যৌক্তিকতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ নাগরিক কি কাউকে আটক করতে পারেন?
বাংলাদেশের আইনে কাউকে আটক করার ক্ষমতা শুধু পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকও কাউকে আটক করতে পারেন।
১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার প্রথম উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সামনে কেউ আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ করলে অথবা কেউ ঘোষিত অপরাধী হলে তাঁকে আটক করার সুযোগ রয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিকে অযথা বিলম্ব না করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। পুলিশ উপস্থিত না থাকলে তাঁকে নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যেতে হবে।
সুতরাং, একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যও সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে কাউকে আটক করতে পারেন। কিন্তু এ বিধান তাঁকে সাধারণভাবে অভিযান পরিচালনা, সন্দেহের ভিত্তিতে যেকোনো ব্যক্তিকে ধাওয়া করা কিংবা পুলিশের মতো তল্লাশি চালানোর ক্ষমতা দেয় না।
ইশরাকের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের আটক করার সময় তাঁরা কী করছিলেন এবং কোনো অপরাধ সরাসরি সংঘটিত হতে দেখা গিয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা কি অস্ত্র নিয়ে অভিযানে অংশ নিতে পারেন?
ঘটনাস্থলে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে তাঁর নিয়োগ দেওয়া দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু ছিলেন। পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে অস্ত্র বহন করতে এবং সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা গেছে।
ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও সরকারি নিরাপত্তাকর্মীর আইনগত অবস্থান এক নয়। তাঁদের অস্ত্র বহনের অনুমোদন, ব্যবহারের শর্ত এবং দায়িত্বের পরিধিও আলাদা।
আগ্নেয়াস্ত্রের সাধারণ নীতিমালার ২৫(গ) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো লাইসেন্সধারী নিজের অস্ত্র নিয়ে অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারেন না। এ ধরনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলযোগ্য।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং সশস্ত্র ব্যক্তিগত রক্ষী বা রিটেইনার নিয়োগের বিশেষ নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালার ১১ অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৬ অনুচ্ছেদে অনুমোদিত অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানি করা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে ইশরাক হোসেনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা কোন বিধানের অধীনে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের অস্ত্রের লাইসেন্স কার নামে এবং সেগুলোর বর্তমান বৈধতা কী—এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিশেষ নীতিমালার বিধান তাঁদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দিলে কী শাস্তি হতে পারে?
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারায় অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কাউকে তাঁর শরীর, সুনাম বা সম্পদের ক্ষতির হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করা এ ধারার আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে, হুমকি দিয়ে কাউকে আইনত করতে বাধ্য নন—এমন কাজ করানো কিংবা আইনত করার অধিকার রয়েছে, এমন কাজ থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রেও ধারাটি প্রযোজ্য হতে পারে।
দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের হুমকিসহ নির্দিষ্ট গুরুতর পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে হুমকির উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিস্থিতি এবং প্রমাণ বিবেচনা করতে হয়।
ইশরাকের অভিযানের ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। একই ভিডিওতে এক তরুণকে লাথি মারার দৃশ্যও রয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এসব ঘটনায় অন্যান্য ফৌজদারি বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৮ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জনশান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত কারণ উল্লেখ করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদেও অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলযোগ্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় আইন বা লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা প্রমাণ এবং প্রযোজ্য বিধান পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ থাকলে কী করতে পারেন জনপ্রতিনিধিরা?
ইশরাক হোসেনের দাবি, তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ করে আসছেন। তিনি বিষয়টি পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
অন্যদিকে, গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ১১ অক্টোবর ডিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৩০০ পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোনো এলাকায় মাদক ব্যবসা বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যর্থ হলে জনপ্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টি আনতে পারেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে পারেন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে পারেন। কিন্তু পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ থাকলেই একজন জনপ্রতিনিধি নিজের জন্য নতুন করে পুলিশি ক্ষমতা তৈরি করতে পারেন না।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশনা দেওয়া, আর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। তাঁর মতে, প্রতিমন্ত্রী যেভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, সেটি বেআইনি।
সব মিলিয়ে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদমর্যাদা তাঁদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প করে তোলে না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাউকে আটক করার সুযোগ থাকলেও তা সীমিত আইনি শর্তের অধীন। একইভাবে, বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন বা ব্যবহারের সুযোগ দিলেও তা দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে পুলিশি অভিযান পরিচালনা কিংবা কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অনুমতি দেয় না। গেন্ডারিয়ার ঘটনায় এসব শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।



.png)
.png)