ঢাকা,  রোববার
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

দুই ফরম্যাটেই সেরা হ্যারি ব্রুক

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই ফরম্যাটেই সেরা হ্যারি ব্রুক

হ্যারি ব্রুক

বাংলায় বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ—‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’ অর্থাৎ, যার একাধিক ক্ষেত্রে দক্ষতা রয়েছে। ক্রিকেটে এই প্রবাদের আধুনিক সংস্করণ হতে পারে—‘যিনি টেস্টে ভালো, তিনি টি-টোয়েন্টিতেও ভালো।’ ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক যেন সেই কথাটিই বাস্তবে প্রমাণ করছেন।

টেস্ট ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টিতেও তাঁর অবস্থান শীর্ষ দশে—নবম। দুই ভিন্নধর্মী ফরম্যাটেই বিশ্বের সেরাদের একজন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এই মুহূর্তে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি—দুই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র ক্রিকেটারও ব্রুক।

তবে ব্রুকের সাফল্য শুধু ব্যাটিংয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দারুণ সফল। ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর দল ২৬ ম্যাচের ২৩টিতেই জয় পেয়েছে। সর্বশেষ জয়টি এসেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে। সিরিজে একটি সেঞ্চুরিসহ ১৭০ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন ব্রুক। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কাকে সিরিজে হারিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ড।

একই সময়ে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি—দুই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা অবশ্য নজিরবিহীন নয়। তবে ব্রুকের কীর্তির বিশেষত্ব শুধু র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়; দুই ফরম্যাটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ক্রিকেটে অগ্রাধিকারের জায়গাতেও।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, মনোযোগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করার সক্ষমতা। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে দরকার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অল্প কয়েক বলের মধ্যেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা। দুটি ফরম্যাটের এই ভিন্ন চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তার ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির পাশাপাশি রয়েছে দেশে-বিদেশে একের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। ফলে অনেক ক্রিকেটারই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান না। কারও ক্ষেত্রে আবার দুই বিপরীতধর্মী ফরম্যাটে সামর্থ্যের প্রশ্নও থাকে।

বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় টেস্ট ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে। ৮৬১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে শীর্ষে ব্রুক। তাঁর পর আছেন স্টিভ স্মিথ, জো রুট, ট্রাভিস হেড ও টেম্বা বাভুমা। তাঁদের মধ্যে ট্রাভিস হেড ছাড়া বাকি তিনজন বর্তমানে টি-টোয়েন্টি খেলছেন না, কিংবা এই ফরম্যাটে নির্বাচকদের বিবেচনায় নেই।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচেও টেস্ট ক্রিকেটের উপস্থিতি নেই। ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মা, সাহিবজাদা ফারহান, ফিল সল্ট ও ডেভাল্ড ব্রেভিস—তাঁরা কেউ টেস্ট খেলেন না, আবার কেউ টেস্ট দলে নিয়মিত জায়গা পান না।

তাহলে দুই ফরম্যাটের র‌্যাঙ্কিংয়েই শীর্ষ দশে থাকা ব্রুকের পক্ষে কীভাবে সম্ভব হলো?

শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ২৭ বছর বয়সী অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ‘আমি যতটা সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই। এটাই আমার অগ্রাধিকার। দ্য হানড্রেড ছাড়া কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও খেলি না। ফিট থেকে যতটা সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই।’

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার ওপর পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রুককে দুই ফরম্যাটেই নিয়মিত থাকার সুযোগ দিয়েছে। তবে নিয়মিত খেললেই যে দুই ফরম্যাটে সাফল্য আসবে, এমন নয়। আর সেখানেই ব্রুকের কীর্তির আসল বিশেষত্ব।

তিনি শুধু টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটেই খেলছেন না; দুটিতেই নিজেকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একদিকে টেস্টের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, অন্যদিকে টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটেও শীর্ষ দশে। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে বিশেষায়িত ফরম্যাটের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে হ্যারি ব্রুক যেন দেখিয়ে দিচ্ছেন—সঠিক অগ্রাধিকার ও ধারাবাহিকতা থাকলে দুই ভিন্নধর্মী ক্রিকেটেও সমানভাবে সফল হওয়া সম্ভব।

Advertisement
Advertisement