ঢাকা,  বুধবার
০৭ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ব্যালন ডি’অরের আগে ওলিসের ঝলক, জিদানের ‘মাস্টারক্লাসে’ ফ্রান্সের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিত: ১৩:১৩, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যালন ডি’অরের আগে ওলিসের ঝলক, জিদানের ‘মাস্টারক্লাসে’ ফ্রান্সের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

ব্যালন ডি’অরের আগে ওলিসের ঝলক

‘...এবং ব্যালন ডি’অর জিতলেন মাইকেল ওলিসে।’

সেন্ট ডেনিসে ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে গতকাল রাতে যেন এমনই রায় এসেছে। এবারের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে ২৬ অক্টোবর। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা মাইকেল ওলিসে পুরস্কারটি জিতবেন কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বললে খুব একটা বাড়াবাড়ি হবে না।

নেশনস লিগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৪–১ গোলের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স কোচ জিনেদিন জিদানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—মাইকেল ওলিসে কি এখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার?

জিদান সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। মুখে হাসি রেখে বললেন, ‘ওলিসে? আমার কিছু বলার নেই। সে মাঠে যা করে, একদমই আলাদা।’

গত রাতের ম্যাচটিই এর বড় উদাহরণ। ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ১–০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। এরপর ম্যাচের ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে, মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকি। শেষ ১৪ মিনিটে ফ্রান্স যে চারটি গোল করেছে, সেগুলোর সবকটিতেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান ছিল এই বদলি খেলোয়াড়দের।

৮১ মিনিটে শেরকিকে দিয়ে গোল করান ওলিসে। এরপর ৮৮ ও ৯০+১ মিনিটে নিজেই জোড়া গোল করে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার।

তবে ওলিসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেবল বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে ৭ ম্যাচে তাঁর গোল ৮টি। ফ্রান্সের জার্সিতেও এ বছর দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এ বছর ১৭ গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন—৭ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট।

একুশ শতকে একই বর্ষপঞ্জিতে ফ্রান্সের হয়ে এর চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখতে পেরেছেন কেবল থিয়েরি অঁরি। ২০০৩ সালে অঁরির অবদান ছিল ১৯ গোলে।

ওলিসে, দুয়ে ও শেরকিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফ্রান্স নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিন গোলের ব্যবধানে জিতেছে।

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে চার ম্যাচে এটি জিদানের তৃতীয় জয়। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই কোচ হিসেবে তাঁর কৌশলেরও বড় পরীক্ষা ছিল। ৬০ মিনিটে শেরকি ও ওলিসেকে একসঙ্গে মাঠে নামানোর পর তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় জিদানকে। এরপর দুজন মিলে ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন।

তবে ওলিসে কৃতিত্বটা নিজের দিকে নিতে চাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এটি পুরো দলের প্রচেষ্টার ফল। জিদান নতুন কিছু ধারণা নিয়ে এসেছেন এবং খেলোয়াড়েরা সেগুলো অনুসরণ করছেন।

জিদানও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বদলে দলীয় সাফল্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড়েরা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু গত দুই সপ্তাহে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের ‘এ১’ গ্রুপে ফ্রান্সের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইতালি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় বেলজিয়াম। আর কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্ক রয়েছে তলানিতে।

আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইতালি ও তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে ফ্রান্স। চার গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে।

Advertisement
Advertisement