ঢাকা,  শনিবার
৩১ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ: তেহরানের খতিব

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ: তেহরানের খতিব

জাভাদ হাজ আলি আকবারি

নতুন পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব জাভাদ হাজ আলি আকবারি। তাঁর দাবি, ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেই এ বিষয়ে সমর্থন বাড়ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর মেহের নিউজের।

খুতবায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন আলি আকবারি। তিনি বলেন, চিঠি পাঠানো কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতির কারণে ইরানের অসতর্ক হওয়া উচিত নয়। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনার কথা বলে বা কোনো বার্তা পাঠায়, তখন অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধের হুমকির চেয়েও বড় বিপদ কিংবা ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে।

ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রস্তাব কোনো তাড়াহুড়ো বা আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া নয়। বরং এটি জাতীয় পরিপক্বতা ও সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ।

ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশটির সব ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা অতিক্রম করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আলি আকবারি বলেন, প্রতিপক্ষের এমন আচরণের কারণে বছরের পর বছর ধরে ইরানি জনগণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে তারা আরও সচেতনতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করার উপায় হিসেবেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার থেকেই ইরানের জনগণের মধ্যে এ দাবি তৈরি হয়েছে। এটি পুরো জাতির ইচ্ছার প্রতিফলন। তাই একে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অতীতে পরিচালিত কয়েকটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে আলি আকবারি দাবি করেন, ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিষয়টিকে ‘জাতীয় দাবি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের এ নিয়ে গভীর পর্যালোচনা এবং নিজেদের প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা চালানোর পরামর্শ দেন তিনি। এসব পর্যালোচনা থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনির কাছে উপস্থাপনের আহ্বানও জানান তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব।

Advertisement
Advertisement