ঢাকা,  বুধবার
২৮ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়, নেতানিয়াহু-আইজেনকোট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে নেই

প্রকাশিত: ১০:১৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়, নেতানিয়াহু-আইজেনকোট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে নেই

নেতানিয়াহু-আইজেনকোট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে নেই

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) গভীর রাতে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক হিসাবে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকলেও পরে ব্যবধান ঘুচিয়ে এগিয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের জরিপে আসনসংখ্যার হিসাবে পার্থক্য থাকায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যানেল টুয়েলভের এক্সিট পোল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এগিয়ে আছে ৪৯টি আসনে। আরব লিস্ট এগিয়ে রয়েছে ১৯টি আসনে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। এদিকে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান ইলেভেন ও চ্যানেল থার্টিনের এক্সিট পোলের হিসাবে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী শিবির এবং আইজেনকোটের বিরোধী শিবির—উভয় পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে।

একক দল হিসেবে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। বিভিন্ন জরিপের হিসাবে দলটি ২৭টি আসন পেতে পারে, যা আগের অনুমানের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, আইজেনকোটের দল ইয়াশার পেতে পারে ২১টি আসন। তবে একক দলের এই ব্যবধান সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

কান ইলেভেনের হিসাব অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি দুটি আসন বাড়িয়ে ২৭টিতে পৌঁছালেও তাদের উগ্র ডানপন্থী মিত্র ওতজমা ইয়েহুদিত একটি আসন হারিয়ে ছয়টিতে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট দল একটি আসন হারিয়ে নয়টি পেতে পারে।

লিকুদের কার্যালয়ে উল্লাস

এক্সিট পোলের নতুন হিসাবে আসনসংখ্যা বাড়ার আভাস পাওয়ার পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দলটির শীর্ষ নেতারা কার্যালয়ে আসতে শুরু করলে সমর্থকেরা নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় ব্যালট পেপার শূন্যে ছুড়ে উল্লাস করতেও দেখা যায় তাঁদের।

জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আমিচাই চিকলি কার্যালয়ে পৌঁছে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন। একক দল হিসেবে লিকুদের এগিয়ে থাকার আভাসে সমর্থকদের মধ্যে সরকার গঠনের প্রত্যাশা জোরালো হলেও জোটের সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নেতানিয়াহুকে রাজনীতি ছাড়ার আহ্বান আইজেনকোটের

অন্যদিকে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফল সামনে আসার পর নিজের দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট। তিনি চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।

আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার ঘোষণা দেন।

আইজেনকোট বলেন, তাঁর সরকার সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেবে এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে কাজ করবে। এ ছাড়া দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিথ্যা ও ব্যর্থতার যুগ এবার শেষ হয়েছে।’

সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

এক্সিট পোলের ফলের ভিত্তিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুই নেতাই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইতে পারেন। তবে চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষকেই জোটের শরিকদের সমর্থন আদায় করতে হবে।

আরব দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে। নেতানিয়াহুবিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডানপন্থী জোটের মিত্রদের আসনসংখ্যা ও পারস্পরিক সমঝোতাও নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু আবারও সরকার গঠন করতে পারবেন কি না।

ফলে একক দল হিসেবে লিকুদ এগিয়ে থাকলেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান এখনই হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

Advertisement
Advertisement