ইহুদি-আরব জোট
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’। জোটটির প্রধান নেতা ও চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুর ‘রক্তপাতের সরকার’ পরিবর্তন করতে চান তাঁরা। এ জন্য বিকল্প সরকার গঠনে আগ্রহী দলগুলোকে জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গাদি আইজেনকোতের ইয়াশার পার্টি। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট।
ইউসেফ জাবারিন বলেন, “নেতানিয়াহুর রক্তপাতের সরকারকে হটাতে আমি একটি প্রকৃত ইহুদি-আরব জোট গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বিকল্প সরকার গঠন করতে চায়, তাদের জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”
নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একজোট হয়েছিল ইসরায়েলের কয়েকটি ইহুদি রাজনৈতিক দল। ‘চেঞ্জ ব্লক’ নামে পরিচিত এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোত। তবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, চেঞ্জ ব্লকের শরিক ডেমোক্র্যাট পার্টি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির মতে, নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিরোধীদের সামনে বড় একটি সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর সমঝোতা জরুরি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন রয়েছে ১২০টি। সরকার গঠন করতে হলে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়।
নির্বাচনের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৭টি আসন।
এই হিসাব অনুযায়ী, প্রধান দুই পক্ষের কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর সমর্থন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হতে পারে।
তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিরোধী শিবিরের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



.png)
.png)