এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, গত বছরের চেয়ে কমেছে ৬.৭১ শতাংশ
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের এ তথ্য জানানো হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকাশিত ফলাফল শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকে জানা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল ও মার্কশিট ডাউনলোড করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে নিজস্ব ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে HSC, এরপর বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর এবং ২০২৬। সব তথ্যের মাঝে স্পেস দিয়ে বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। যেমন: HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফল জানা যাবে।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল বিতরণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের নিয়মাবলি ও ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার সূচি ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।



.png)
.png)