ঢাকা,  শুক্রবার
৩০ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

গাবতলী-নিউমার্কেট-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চাইল সরকার

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:৪৭, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

গাবতলী-নিউমার্কেট-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চাইল সরকার

মেট্রোরেল

গাবতলী থেকে নিউমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের সমান।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রকল্পটির অর্থায়নের পাশাপাশি সামগ্রিক মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাও চেয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম প্রস্তুত করছে বিশ্বব্যাংক। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। নভেম্বরে আলোচনা শেষ হওয়ার পর মেট্রোরেল প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এগোতে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুমোদনের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর এমআরটি লাইন-২-এর প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের জন্য পাঠানো হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে ‘রিকোয়েস্ট লেটার’ পাঠায়।

প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে এই মেট্রোরেল ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি ১৫ (জিগাতলা), সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভুইগড়, চাষাঢ়া ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।

মোট ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই লাইনের সাড়ে ৭ কিলোমিটার হবে পাতালপথে। বাকি অংশ নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে।

এমআরটি লাইন-২-এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হবে। গাবতলীতে এই লাইন যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৫-এর উভয় রুটের সঙ্গে। কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে সংযোগ থাকবে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ ও লাইন-৪-এর। অন্যদিকে, সাইনবোর্ড হবে এমআরটি লাইন-৪-এর সংযোগস্থল।

ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ধীরগতিতে এগোলেও বর্তমান সরকার এগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরেও দেশটির অর্থায়নে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে, গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৪-এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করেছে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের নিয়োগ করা পরামর্শক দল। প্রতিবেদনটি ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে মেট্রোরেল কোম্পানি।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপান সফর শেষে ছয় দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। এ সময় দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের বিষয়ে দেশটির এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement
Advertisement