ঢাকা,  বুধবার
১৪ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

তেলাপোকা দমনে কামান দাগল মোদি সরকার, আন্দোলন কি আরও ছড়াবে?

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৬:১০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

তেলাপোকা দমনে কামান দাগল মোদি সরকার, আন্দোলন কি আরও ছড়াবে?

তেলাপোকা

কথায় আছে, ‘মশা মারতে কামান দাগা’। কিন্তু দিল্লিতে তেলাপোকা দমনে যেন কামানই দাগল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকার। গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যাপক ধরপাকড় এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ নিয়ে এমনই ব্যঙ্গাত্মক আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, এত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন থামানো গেল, নাকি এর মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গেল?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অনলাইনভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১০ অক্টোবর দিনভর সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার খবর প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের নেতাদেরও আটক করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে সরকার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোরতা দেখিয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, যানবাহনে তল্লাশি এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত যন্তর মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটিতে প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু ইউটিউবারকেও আটক করার অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ধরে পুলিশি গাড়িতে তোলার দৃশ্য দেখা যায়। এসব ঘটনা নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ পৌঁছাল জাতিসংঘ পর্যন্ত

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এর জবাবে ভারত সরকার জানায়, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং এ নিয়ে জাতিসংঘের মন্তব্যকে তারা অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি দাবি করে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দিয়েছে। বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরে ভারত সরকার।

তবে সমালোচকদের মতে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের ঘটনা সরকারের গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁদের দৃষ্টিতে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা উল্টো আন্দোলনের খবর দেশ-বিদেশে আরও বেশি ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণের বক্তব্যও এ আলোচনায় উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, হাজারো মানুষের কাছ থেকে যন্তর মন্তরের রাস্তা আটকে রেখে মোদি ও অমিত শাহ যেন ওই প্রতিবাদস্থলকে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বক্তব্যটি আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণার প্রতিফলন—প্রতিবাদ দমনের কঠোর ব্যবস্থা কখনো কখনো প্রতিবাদের প্রচারও বাড়িয়ে দিতে পারে।

‘এই ছাত্ররা কি চম্বলের ডাকাত?’

বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আটক করার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিজেপি-প্রধান অভিজিৎ দীপকের মা-বাবা। তাঁদের প্রশ্ন, দিল্লিতে এত পুলিশ কেন? এত শিক্ষার্থীকে আটক করা হচ্ছে কেন? তাঁরা আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ছাত্ররা কি চম্বলের ডাকাত?’

ভারতের চম্বল উপত্যকা একসময় ডাকাতদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে বিক্ষোভকারীদের আটকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে তাঁরা মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে কি না।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেই সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও গৃহীত পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান দাবি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির পর আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা আন্দোলন থেকে সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছেন। বরং আরও সংগঠিত হয়ে ফিরে আসার কথা বলেছেন তাঁরা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজনও জানিয়েছেন, আন্দোলন চললে তাঁরা নিয়মিত প্রতিবাদস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনের বরাতে লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ ধরপাকড় বন্ধ এবং মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কথা সামনে এসেছে। একই সময়ে দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার খবরও প্রকাশিত হয়।

দিল্লির বাইরে থেকেও বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা তরুণদের বক্তব্যে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গাজিয়াবাদ থেকে আসা এক তরুণ দ্য ওয়ালকে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে তাঁরা দীর্ঘ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি এক দিনের আন্দোলন নয়; তাঁরা কী দাবি করছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই অবস্থায় আন্দোলন শুধু একটি দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে—তা নির্ভর করছে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত থাকার সক্ষমতা, জনসমর্থন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

জ্ঞানেশ কুমার কি বিজেপির জন্য রাজনৈতিক বোঝা?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের কারও কারও মতে, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় সাংবাদিক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় ১ অক্টোবরের এক পডকাস্টে মন্তব্য করেন, বিজেপির স্বার্থেই জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে তাঁর পদত্যাগ বা অপসারণ হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয়ও রয়েছে।

দ্য ওয়ালের মুখ্য সম্পাদক শঙ্খদীপ দাস ২ অক্টোবরের এক পডকাস্টে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশও রয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যও এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বিরোধীদের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য ও আচরণে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতি পক্ষপাতের প্রতিফলন দেখা যায়। অন্যদিকে বিজেপি এসব অভিযোগের জবাব দিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এই বিতর্ক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক দীর্ঘায়িত হলে তা নির্বাচন কমিশনের ওপর জনআস্থা এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বক্তব্য, বিশ্লেষণ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

বিজেপির অন্দরে কি অসন্তোষ বাড়ছে?

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের পডকাস্টে দলটির ভেতরে অসন্তোষ, নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বরের একটি পডকাস্টে ভারতীয় সাংবাদিক সুব্রত বসু প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির কয়েকজন মন্ত্রী কি নরেন্দ্র মোদির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন? সেখানে বিজেপির কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির অসন্তোষের বিষয়ে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও তুলে ধরা হয়। তবে এসব বক্তব্যকে দলটির অভ্যন্তরীণ অবস্থার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এ ছাড়া শ্রীজা মুখার্জির ১০ অক্টোবরের একটি পডকাস্টে বিজেপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৫ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ আসে। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে দলের ভেতরে কতটা অসন্তোষ রয়েছে এবং তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখানে নেই।

বাইরের প্রতিবাদ, ভেতরের চাপ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে যেকোনো সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জমতে পারে। শঙ্খদীপ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকার সব শ্রেণির মানুষকে সন্তুষ্ট রাখতে পারে না। ফলে সময়ের সঙ্গে সরকারবিরোধী মনোভাবও বাড়তে পারে।

লেখাটিতে বিজেপি, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গও এসেছে। অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনসহ কয়েকটি বিষয় ঘিরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলের কিছু অংশের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরির দাবি করেছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। তবে এসব দাবির ব্যাপ্তি ও প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

অর্থাৎ, দিল্লির বিক্ষোভের তাৎপর্য শুধু রাস্তায় কত মানুষ জড়ো হলেন, তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। আন্দোলনের দাবিগুলো কতটা জনসমর্থন পায়, তা কত দিন স্থায়ী হয় এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নে কী প্রভাব ফেলে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ নয়, আন্দোলনের নতুন অধ্যায়?

১২ অক্টোবর কলকাতার রাজপথে বিজেপিবিরোধী স্লোগান ওঠার খবরও প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে কেরালার বিধানসভায় জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে প্রস্তাব তোলার প্রসঙ্গ এসেছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কতটা বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও আন্দোলনকারীদের একাংশের অনড় অবস্থান একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে: প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে কি রাজনৈতিক অসন্তোষের সমাধান সম্ভব, নাকি তার জন্য প্রয়োজন অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহি?

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি পূরণ হলেও ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের সমাধান হবে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়। আপাতত স্পষ্ট, এই বিতর্কের পরিণতি নির্ভর করবে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমতের ওপর।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন