মো. আবিদুল ইসলাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদলের প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম। ফলাফল ঘোষণার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, পরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলেও সন্ধ্যার পর থেকে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত দেড়টার পর থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা শুরু হলে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা ভিপি, জিএস, এজিএসসহ বিভিন্ন পদে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
আবিদুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া
ফলাফল ঘোষণার সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন আবিদুল ইসলাম—
‘পরিকল্পিত কারচুপির এই ফলাফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নিন। এই পরিকল্পিত প্রহসন প্রত্যাখ্যান করলাম।’
তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জানান, এই ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত রায় নয়।
জিএস প্রার্থী হামিমের বক্তব্য
ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমও একই সময়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেন—
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন—এটিই তাঁদের রায়, তবে এই রায়কে আমি সম্মান জানাই। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষমাণ।’
তবে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় নানা অনিয়ম ঘটেছে। তার ভাষায়—
‘আজকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ ভোটানুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গণনার ক্ষেত্রে মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে।’
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি বরাবরই আপনাদের কাছে, আপনাদের ভালোবাসায় ঋণী। আমি আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং যত দিন থাকব আপনাদের পাশেই থাকব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ফেসবুকে রাত আড়াইটার দিকে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লিখেছেন—
‘চলিতেছে সার্কাস। কে কে দেখছেন?’
ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে প্রথম থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন প্রার্থীর অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হলেও ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন অনিয়ম ও কারচুপির।



.png)
.png)