ঢাকা,  রোববার
০১ নভেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ৮০ কারখানায় ছুটি

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ১ নভেম্বর ২০২৬

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ৮০ কারখানায় ছুটি

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ৮০ কারখানায় ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে ঢাকার সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে দুই জেলার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার সকালে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের দিকে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে অধিকাংশ কারখানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। তবে নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে তাঁরা সড়কের পাশে অবস্থান নেন এবং শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, কাজ বন্ধ রেখে কারখানায় অবস্থান করা একাধিক শ্রমিক তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলেননি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাধারণত কাজ বন্ধ থাকার কারণে যেসব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়, সেখানকার শ্রমিকেরা দাবিগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।

এ পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়িতে মাইকিং করা হয়। এ সময় শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হয়, শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে শিল্প পুলিশ কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়েও পুলিশ তাঁদের পাশে রয়েছে।

গাজীপুরে গোডাউন ও পিকআপভ্যানে আগুন

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে কালিয়াকৈরের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সকালে কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের আন্দোলনের কারণে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় গাড়িটি পুড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে আগুন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বাধার মুখে তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

Advertisement
Advertisement