ঢাকা,  বুধবার
১৪ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

রেমিট্যান্সের ৬০ শতাংশ আসছে পাঁচ দেশ থেকে, রিজার্ভে স্বস্তি

প্রকাশিত: ১০:০১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৮, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রেমিট্যান্সের ৬০ শতাংশ আসছে পাঁচ দেশ থেকে, রিজার্ভে স্বস্তি

বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ থেকে কাজের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন মানুষ। তবে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা মোট ৮৫৯ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকেই এসেছে ৫০৯ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৭৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১০১ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা চলতি অক্টোবর মাসেও অব্যাহত রয়েছে। মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১৭ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। আগের দুই অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে।

শীর্ষে সৌদি আরব, এরপর যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী শ্রমিকের বসবাস সৌদি আরবে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। চতুর্থ অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। শ্রমবাজারটি পুনরায় সক্রিয় হলে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ প্রবাসী আয়ের ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।

হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান, বাড়ছে প্রবাসী আয়

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

প্রবাসী আয়ে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে।

রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

আমদানি ও রপ্তানির প্রবণতার মধ্যেও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতেও গত ১১ অক্টোবর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত জুনে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ জুনের তুলনায় রিজার্ভ কিছুটা কমলেও তা এখনো ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে কমে যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও রিজার্ভ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনের প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন