ঢাকা,  বুধবার
২৯ মে ২০২৪

Advertisement
Advertisement

কেন রোলেক্স ঘরির এতো দাম

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ১০ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ১২:০৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

কেন রোলেক্স ঘরির এতো দাম

রোলেক্স ঘড়ি

সারা বিশ্বে বিলাসবহুল হাতঘড়ির জগতে সুইস ব্র্যান্ড রোলেক্স এর নাম এক ডাকে পরিচিত। ধনী ও অতিধনীদের পছন্দের অনুষঙ্গ এটি। নিজস্ব নকশা ও উন্নত উপকরণ দিয়ে তৈরি রোলেক্স বিশ্বের ঘড়ির বাজারে অন্যতম বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত। রোলেক্স এখন আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক।

শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, খেলা ও বিনোদনজগতের তারকা থেকে ধর্মগুরুঅনেকের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে আকাশছোঁয়া দামের এই রোলেক্স। তবে এই ঘড়িকে ঘিরে কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে অনেকের।

রোলেক্সের যাত্রা শুরু

১০০ বছর আগের কথা। যুক্তরাজ্যে ১৯০৫ সালে হ্যানস উইলসডর্ফ তার শ্যালক আলফ্রেড ডেভিসকে সঙ্গে নিয়ে  প্রতিষ্ঠা করেন ঘড়ি তৈরির একটি কোম্পানি। দুজনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে কোম্পানির নাম রাখা হয় ‘উইলসডর্ফ অ্যান্ড ডেভিস। হ্যানস উইলসডর্ফের জন্ম জার্মানির একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। একসময় সুইজারল্যান্ডে একটি ঘড়ি তৈরির কোম্পানিতে কাজ করেছেন। সেখান থেকেই তার ঘড়ি তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন। পরে তা কাজে লাগান নিজের গড়ে তোলা কোম্পানিতে।

যদিও কোম্পানির নাম নিয়ে শুরু থেকেই বেশ খুঁতখুঁতে ছিলেন হ্যানস উইলসডর্ফ। নামটা পছন্দ হচ্ছিল না তাঁর। তাই ১৯০৮ সালে কোম্পানির নাম বদলে রাখেন ‘রোলেক্স। সেই থেকে হ্যানস উইলসডর্ফের কোম্পানি এ নামেই চলছে।

শুরুতে যুক্তরাজ্যে ছিল রোলেক্সের কারখানার দপ্তর। ১৯১৫ সালে যুক্তরাজ্য সরকার ঘড়ির ওপর ৩৩ শতাংশ আবগারি শুল্ক আরোপ করে। এরপর হ্যানস উইলসডর্ফ রোলেক্সের সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে সরিয়ে নেন।

দাম কত রোলেক্সের

মডেলভেদে রোলেক্সের একেকটি ঘড়ির দাম কয়েক হাজার ডলার থেকে কয়েক লাখ, এমনকি কোটি ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় একেকটি রোলেক্স ঘড়ি কিনতে গুনতে হয় লাখ থেকে কোটি টাকা।

৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে পাওয়া যায় রোলেক্সের ডালটন মডেলের একেকটি ঘড়ি। রোলেক্স ওয়েস্টার ডেট মডেলের ঘড়ি কিনতে গুনতে হবে তিন হাজার ডলার।  আর ওয়েস্টার পারপেচুয়াল ডেট মডেলের ৩৪ মিলিমিটার ভিন্টেজ ঘড়ির দাম ২ হাজার ৫০০ ডলার।

রোলেক্স এর দাম এতো কেন

রোলেক্সের নকশা আইকনিক। মান বেশ উন্নত। এ জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তারকাদের কাছে এর কদর অনেক। তবে শুরুতে ভিন্ন একটি কারণে রোলেক্স বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেটা হলো বিশ্বে প্রথমবারের মতো পানিপ্রতিরোধী বা ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি তৈরি করে রোলেক্স। ফলে বাজারে এটা দ্রুত জনপ্রিয় হয়।

আরও একটি কারণ আছে, হ্যানস উইলসডর্ফ ছিলেন খুবই দূরদর্শী। তিনি যখন ঘড়ি তৈরির কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন, তখন পকেটঘড়ির প্রচলন ছিল বেশি। তবে হ্যানস উইলসডর্ফ বুঝতে পেরেছিলেন, বেশি দিন এই চল থাকবে না। জনপ্রিয় হবে হাতঘড়ির ব্যবহার। এ ভাবনা থেকেই চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হন তিনি। পরের সময় ইতিহাস গড়ার। রোলেক্স এখন বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান।

দ্য ওয়াচ কোম্পানি বলছে, রোলেক্সের আভিজাত্যের আরও কিছু কারণ রয়েছে। এসব ঘড়িতে উন্নত মানের ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। কিছু মডেলে ব্যবহার করা হয় সোনা, হীরা, প্লাটিনামের মতো দামি ধাতু। রোলেক্সের প্রযুক্তি আর পানিপ্রতিরোধীব্যবস্থা বিশ্বমানের।

Advertisement
Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /mnt/volume_sgp1_05/p1kq0rsou/public_html/details.php on line 531