ঢাকা,  শনিবার
০৩ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

জেলের পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকল জীবন্ত বাইম মাছ, অস্ত্রোপচারে উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩৫, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জেলের পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকল জীবন্ত বাইম মাছ, অস্ত্রোপচারে উদ্ধার

জেলের পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকল জীবন্ত বাইম মাছ, অস্ত্রোপচারে উদ্ধার

মানুষের শরীরে জীবন্ত প্রাণী প্রবেশের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এমনই এক অস্বাভাবিক ঘটনায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের পেটে দেখা দেয় তীব্র ব্যথা ও মারাত্মক সংক্রমণ। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর অন্ত্র থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি জীবন্ত বাইম মাছ বের করেন চিকিৎসকেরা। বিরল এই চিকিৎসা ঘটনার বিবরণ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ।

প্রকাশিত কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ তাঁর শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে। লজ্জার কারণে তিনি প্রথমে বিষয়টি চিকিৎসকদের জানাননি। মাছটি নিজে থেকেই বের হয়ে আসবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তীব্র পেটব্যথা ও সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

হাসপাতালে ভর্তির পর বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল দল তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে। এক্স-রে ও অন্যান্য স্ক্যানের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র হয়ে যাওয়া এবং পেটের ভেতরে মারাত্মক সংক্রমণের লক্ষণ শনাক্ত করেন। পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত বাইম মাছটি বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। মাছটির কারণে তাঁর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আকারের একটি ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের ছিদ্রের কারণে পেটের ভেতরের আবরণে প্রাণঘাতী প্রদাহ ও সংক্রমণ, অর্থাৎ পেরিটোনাইটিস, দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাছটি অপসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সার্জারি ও কোলস্টমি সম্পন্ন করেন। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করে বাইম মাছের মতো জীবন্ত প্রাণীর প্রবেশের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের মলদ্বারে একটি বাইম মাছ প্রবেশ করিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায় ও মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা।

রোগীর তথ্য গোপন না করার পরামর্শ

এই ঘটনা থেকে চিকিৎসকেরা রোগীর চিকিৎসা-ইতিহাস জানার গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, লজ্জা, ভয় কিংবা সামাজিক সংকোচের কারণে রোগীরা অনেক সময় চিকিৎসকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন। অথচ এসব তথ্য সঠিক সময়ে জানা গেলে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা ও গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বা বিরল কারণগুলোকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার না হলে অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা থেকে প্রাণঘাতী সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, রোগীর সঠিক তথ্য দেওয়া এবং চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া—দুটিই এমন জটিল পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Advertisement
Advertisement