কেটফুড
বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের বিড়ালের খাবারে সিসা, পারদ, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু, আগাছানাশক এবং প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা পণ্য পরীক্ষাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিন লেবেল প্রজেক্ট’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬২টি ব্র্যান্ডের ১০০টি পণ্যের ১২২টিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করে এসব ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ড্রাই, ওয়েট কিংবা ফ্রিজ-ড্রাইড—সব ধরনের ক্যাট ফুডেই এসব রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এমনকি ‘প্রাকৃতিক’ বা ‘উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন’ হিসেবে বাজারজাত করা খাবারও এসব দূষণ থেকে মুক্ত নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৯ শতাংশ নমুনায় সিসা, ৯৬ শতাংশে ক্যাডমিয়াম এবং ৯৪ শতাংশ খাবারে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। ড্রাই ক্যাট ফুডে সিসার পরিমাণ ওয়েট ফুডের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
গবেষণার প্রধান লেখক মলি হ্যামিল্টনের মতে, অধিকাংশ বিড়াল প্রতিদিন প্রায় একই খাবার খায়। ফলে খাবারে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘদিন ধরে তাদের শরীরে জমতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক বিড়ালের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের সঙ্গে বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
গবেষণায় প্রোটিনের উৎসভেদেও ঝুঁকির পার্থক্য পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক মাছ বা সিফুডভিত্তিক খাবারে পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে মুরগিভিত্তিক খাবারে এসব ধাতু তুলনামূলক কম থাকলেও সিসা ও আগাছানাশকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ৩৭ শতাংশ ক্যাট ফুডে গ্লাইফোসেট নামের আগাছানাশক শনাক্ত হয়েছে। অর্ধেকের বেশি খাবারে পাওয়া গেছে ডিইএইচপি নামের প্লাস্টিক-সম্পর্কিত রাসায়নিক, বিশেষ করে কৌটা ও পাউচজাত খাবারে যার উপস্থিতি বেশি ছিল।
তবে ক্যাট ফুড প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ‘পেট ফুড ইনস্টিটিউট’ দাবি করেছে, তাদের সদস্যরা কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করেন এবং বাজারের পণ্য নিরাপদ।
এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বিড়ালের খাবারে বৈচিত্র্য আনা, উপাদানের তালিকা ভালোভাবে পড়া এবং সামুদ্রিক মাছভিত্তিক খাবারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



.png)
.png)