ঢাকা,  শনিবার
২৪ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

নতুন হামলা হলে শুধু পাল্টা আঘাত নয়, প্রতিবেশী দেশেও অভিযান চালাবে ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নতুন হামলা হলে শুধু পাল্টা আঘাত নয়, প্রতিবেশী দেশেও অভিযান চালাবে ইরান

নতুন হামলা হলে শুধু পাল্টা আঘাত নয়, প্রতিবেশী দেশেও অভিযান চালাবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে এবার শুধু পাল্টা আঘাত হেনেই থেমে থাকবে না ইরান। প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সামরিক অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। নিজেদের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

গত বুধবার আইআরজিসির এ ঘোষণা আসে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে। প্রায় আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান সংঘাত নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্য কি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে?

ইরানের নতুন সামরিক নীতিতে কী আছে

বুধবার নিজেদের প্রতিরক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয় আইআরজিসি। নতুন নীতিকে তারা বলছে ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক’। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষের হামলার পর শুধু প্রতিশোধমূলক আঘাত হানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রাখবে ইরান।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘আগে আমাদের প্রতিরক্ষানীতি ছিল আত্মরক্ষামূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাব দেব। এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাবও দেব, আবার আক্রমণও চালাব।’

মোহেবির দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে। তবে মোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সংখ্যা জানাননি তিনি।

ইরানের এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা আগের চেয়ে বেড়েছে।

এ ছাড়া ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার জনক’ নামে নতুন একটি অস্ত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানি বাহিনী বলে জানান মোহেবি। তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষের জন্য এটি হবে নতুন কিছু।

হরমুজ প্রণালিতে হামলা, বাড়ছে তেলের দাম

ইরানের নতুন সামরিক নীতির ঘোষণার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীটির অভিযোগ, জাহাজগুলো অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল। হামলার পর সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।

আইআরজিসির আরও দাবি, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের কারণে এ পথে জ্বালানি পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

গত মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসে। রপ্তানিকারকেরা পাইপলাইনসহ বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করায় এটি সম্ভব হয়েছিল।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এর জেরে সৌদি আরবেও হামলা চালাচ্ছে হুতিরা।

এসব ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

কেন সামরিক নীতি বদলাচ্ছে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সামরিক নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে তেহরান—ভবিষ্যতে ইরানে হামলা চালালে তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিচ্ছে ইরান। আগে হামলার জবাবে পাল্টা হামলার নীতি অনুসরণ করেও শত্রুপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি দেশটি।

মোর্তাজাভির মতে, তেহরান এখন নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে। ভবিষ্যতে ইরানে যেকোনো হামলার জন্য হামলাকারীদের যেন অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।

প্রচলিত সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয় ইরান। এ কারণে দেশটি ক্রমেই অসমতাভিত্তিক যুদ্ধকৌশলের ওপর নির্ভর করছে। এ কৌশলের অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে তেহরান।

মোর্তাজাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে ইরান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও এ চাপের প্রভাব পড়তে পারে।

তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটনকে শিক্ষা দিতে চায় তেহরান—ইরানে হামলা চালানোর জন্য অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে। এমনকি এর প্রভাব নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয়ের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

মোর্তাজাভি আরও বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের ধারণা, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই বিশ্লেষকের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের লক্ষ্য এমন প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে দেশটিতে হামলা চালানোর আগে মার্কিন প্রশাসনগুলোকে একাধিকবার ভাবতে হয়।

সংঘাতের ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামি খুরির মতে, ইরানের নতুন সামরিক নীতির আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতিকে শুধু নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা।

আরব সেন্টারের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো খুরি আল-জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও সংঘাতের পরিণতি ভোগ করতে হবে—এমন বার্তা দিতে চাইছে তেহরান।

খুরি বলেন, এটি ইরানের কৌশলের অংশ। তাদের লক্ষ্য হলো, দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি যেন দুই পক্ষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরান এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে উল্লেখ করে খুরি বলেন, ইরানিরা মূলত ঔপনিবেশিক যুগের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে।

তাঁর সতর্কতা, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পৌঁছাবে। জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন, বিমার ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চালান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

খুরির ভাষায়, এ সংঘাতের দুর্ভোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও এর প্রভাব অনুভব করবে।

নতুন হামলা নিয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে না। শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কোনো না কোনোভাবে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি খুব শিগগির শেষ হবে। আমরা এখনই সরে আসতে পারি। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে চাই, সমাধানটি যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়।’

এর আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তাঁর দাবি, আলোচনার পথ সুগম করতে হলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে তেহরানকে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নতুন করে বিরোধের কেন্দ্রে এসেছে। গত বুধবার রুবিও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেয়—এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।

রুবিওর বক্তব্য, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে না পারে, তা নিশ্চিত করে—এমন কোনো চুক্তিকেই সমর্থন করবে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সাত দিনের একটি নতুন পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। এর বিনিময়ে দেশটি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।

সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থানরত জরুরি দায়িত্বে নেই—এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস আরও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব মিশনের জন্য এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, বর্তমান নির্দেশ শুধু সৌদি আরবে কর্মরত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত রোববার তিনি ইরানের সরকারকে উৎখাত করার অঙ্গীকার করেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান যাতে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ নামে পরিচিত আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করতে না পারে, সে জন্য দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

নতুন যুদ্ধ কি আসন্ন?

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ পুরোপুরি শেষ না হলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।

নেগার মোর্তাজাভি বলেন, ‘আরেক দফা যুদ্ধ এগিয়ে আসছে বলেই মনে হচ্ছে।’ তাঁর মতে, দুই পক্ষই নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে বড় পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামরিক অভিযান শুরুর সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন মোর্তাজাভি। তবে তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি আলোচনার চেয়ে সংঘাতের দিকেই বেশি এগোচ্ছে।

গত বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়িও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, রেজায়ি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জন্য মূল্য দিতে হবে—এ কথা সবাইকে বুঝতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেব। কিন্তু যুদ্ধ চলতে থাকলে জবাব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।’

বিশ্লেষক রামি খুরিও নতুন সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। তবে তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে।

আল-জাজিরাকে খুরি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আসন্ন সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে একে যুদ্ধ বলা ঠিক হবে কি না, তা আমি জানি না।’

তাঁর ধারণা, নতুন করে হামলা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক, সেতু ও জরুরি সেবার স্থাপনাগুলোও থাকতে পারে।

খুরি বলেন, সম্ভবত কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে, যার উদ্দেশ্য হবে ইরানের মানুষের জীবন অত্যন্ত কঠিন করে তোলা।

তবে বড় ধরনের নতুন সামরিক আক্রমণ সামলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে সমপরিমাণ ক্ষতি করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ইরান বড় ধরনের নতুন হামলা কতটা সামাল দিতে পারবে, তা অনিশ্চিত। তবে সামরিক চাপের মুখে তেহরানের আত্মসমর্পণ করার সম্ভাবনা কম।

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন