ঢাকা,  শুক্রবার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:২২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। এতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে গাজা ও লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের পথ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে তেহরান।

ইরানের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।

সাত দিনের মধ্যে যেসব শর্ত বাস্তবায়ন চায় ইরান

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে গাজা ও লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকে থাকা ইরানের অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়া, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত বাস্তবায়িত হলে সাত দিনের সময়সীমার শেষ দিনে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অবিলম্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পরমাণু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মার্কিন সামরিক চাপ কমানো এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে।

আগের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন উদ্যোগ

গত ১৭ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতে সংঘাত বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে বিরোধের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

নতুন প্রস্তাবে আগের সমঝোতার মূল শর্তগুলো বহাল রেখেই বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিনে নামিয়ে আনার কথা বলেছে তেহরান।

প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া কতটা?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো নতুন কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনাকে এখনই বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অন্যদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটনকে ইরানের শর্ত পূরণের জন্য চার থেকে পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রস্তাবের শর্তগুলো নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের ওপর।

Advertisement
Advertisement