সাবমেরিন
একটি সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলো, ব্যাহত হলো আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, আর অনলাইন সেবা ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়লেন লাখ লাখ মানুষ।
বর্তমানে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—আক্রমণ চালানো হলে ইরান সাবমেরিন কেবল কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং এখনো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলে স্যাটেলাইট কি ইন্টারনেট সচল রাখতে পারবে? বিশ্বকে সংযুক্ত রাখতে এগিয়ে আসতে পারবে কি স্টারলিংক?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—হ্যাঁ, স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে সাবমেরিন কেবলের বিকল্প হয়ে ওঠার সক্ষমতা এখনো এর নেই।
জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় স্যাটেলাইটের ভূমিকা
সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল বিচ্ছিন্ন হলে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত জনপদ, দুর্যোগকবলিত এলাকা এবং স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন জায়গায় স্যাটেলাইটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই দুই প্রযুক্তি ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল সুরক্ষা কমিটির (আইসিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ ডেটা ও ইন্টারনেট কেবল রয়েছে। প্রতি বছর এসব কেবলে সর্বোচ্চ ২০০টি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ছবিটি প্রতীকী।
আজ আন্তর্জাতিক ডেটা আদান-প্রদানের সিংহভাগই বহন করে সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক কেবল। তুলনামূলক কম খরচে বিপুল পরিমাণ ডেটা পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এসব কেবলের।
অন্যদিকে, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়িয়ে বিকল্প পথে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ দেয়। তবে বিশ্বের মোট ইন্টারনেট চাহিদার তুলনায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরবরাহ করা সম্ভব এমন ডেটা পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত।
হিসাব বলছে, কেন সাবমেরিন কেবলের বিকল্প হতে পারবে না স্যাটেলাইট
দুই প্রযুক্তির সক্ষমতার পার্থক্য অনেক বড়।
ধরা যাক, একটি কাল্পনিক সাবমেরিন কেবল রুটের ব্যবহারযোগ্য ডেটা পরিবহন সক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২০ টেরাবিট (Tbps)। অন্যদিকে, একটি স্যাটেলাইট ব্যাকআপ সংযোগের সক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ১ গিগাবিট (Gbps)।
আমরা জানি, ১ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড সমান ১ হাজার গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড।
সেই হিসাবে—
সাবমেরিন কেবলের সক্ষমতা: ২০ Tbps = ২০ হাজার Gbps।
স্যাটেলাইট ব্যাকআপ সংযোগের সক্ষমতা: ১ Gbps।
দুইয়ের সক্ষমতার অনুপাত: ২০ হাজার : ১।
অর্থাৎ, এই উদাহরণে একটি ১ Gbps স্যাটেলাইট সংযোগ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মোট সক্ষমতার মাত্র ০.০০৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
একই সক্ষমতা অর্জন করতে হলে ২০ Tbps ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সাবমেরিন কেবলের বিকল্প হিসেবে ১ Gbps করে সক্ষমতার ২০ হাজারটি স্যাটেলাইট সংযোগ একসঙ্গে চালু রাখতে হবে। প্রতিটি সংযোগকেও তার পূর্ণ নির্ধারিত সক্ষমতায় কাজ করতে হবে।
তবে এটি একটি গাণিতিক উদাহরণ, স্টারলিংকের মোবাইল সেবার প্রকৃত সক্ষমতার পরিমাপ নয়।
বাস্তবে সাবমেরিন কেবল ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কার্যকর ডেটা পরিবহন ক্ষমতা নির্ভর করে ব্যবহৃত স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইটের নকশা, গেটওয়ের প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক আওতা এবং একই নেটওয়ার্কে কতজন ব্যবহারকারী সংযুক্ত রয়েছেন—এসব বিষয়ের ওপর।
ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স স্টারলিংকের মোবাইল সেবার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার।
ছবিতে রয়েছে স্টারলিংক মিনি কিট এবং স্টারলিংক স্ট্যান্ডার্ড কিট জেনারেশন-৩। এগুলো বহনযোগ্য ও বাসাবাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা।
তবে এই হিসাব থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—পুরো আন্তর্জাতিক কেবল ব্যবস্থার বিকল্প হওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় জরুরি যোগাযোগ সচল রাখার কাজে স্যাটেলাইট বেশি কার্যকর।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল বিচ্ছিন্ন হলে কী ঘটে?
একটি সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলেই যে পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বিকল্প কেবল দিয়ে ইন্টারনেট ট্রাফিক অন্য পথে পাঠানো সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে বিকল্প রুটগুলোতে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকতে হবে।
বড় বিপদ তৈরি হয় তখন, যখন একাধিক কেবল একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কোনো দেশ অল্প কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংযোগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকে অথবা বিকল্প রুটগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রাফিকের ৯৯ শতাংশের বেশি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। সংস্থাটি কেবলের ভৌত ক্ষতি, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় কেবলের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন এবং মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগাকে ইন্টারনেট ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কেবল শনাক্ত করে মেরামত করার সময় স্যাটেলাইট সংযোগ বিকল্প যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে।
ক্ষতির ধরন, আবহাওয়া, মেরামতের জাহাজের প্রাপ্যতা ও অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে একটি কেবল মেরামত করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ স্পেসএক্সের সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিও থেকে নেওয়া একটি স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, স্টারশিপের ১৪তম ফ্লাইটে স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপনের দৃশ্য।
তবে যেখানে স্যাটেলাইট সংযোগ প্রয়োজন, সেখানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যবহারকারীদের কাছে উপযোগী যন্ত্রপাতি এবং বৃহত্তর ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা থাকাও জরুরি। শুধু স্যাটেলাইটের সংকেত পাওয়া মানেই সব ওয়েবসাইট, ক্লাউড সেবা কিংবা পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়।
স্টারলিংক যা করতে পারবে, যা পারবে না
যেসব ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট সহায়তা করতে পারে
জরুরি যোগাযোগ, বার্তা আদান-প্রদান এবং সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে স্যাটেলাইট।
মোবাইল টাওয়ার, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা কিংবা স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুর্যোগ মোকাবিলায় যোগাযোগ সচল রাখতে পারে।
প্রত্যন্ত দ্বীপ, জাহাজ, উড়োজাহাজ এবং বিচ্ছিন্ন জনপদে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে।
সরকারি সেবা ও সীমিত আর্থিক লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলে নির্দিষ্ট কিছু ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য সাময়িক বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।
যেসব ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে
পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চমাত্রার ভিডিও স্ট্রিমিং এবং বিপুল ব্যান্ডউইডথ প্রয়োজন এমন সেবা চালু রাখা কঠিন।
বড় পরিসরের ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিপুল পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নিয়মিত কম ল্যাটেন্সি ও উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা প্রয়োজন এমন আর্থিক এবং এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমের জন্য সব সময় উপযোগী নাও হতে পারে।
বড় শহর ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সংযুক্ত রাখা একাধিক সাবমেরিন কেবলের সম্মিলিত সক্ষমতার বিকল্প হয়ে ওঠা কঠিন।
এ ছাড়া স্যাটেলাইটের প্রযুক্তিভেদেও কার্যক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে।
লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট কতটা কার্যকর?
স্টারলিংকের মতো লো-আর্থ অরবিট বা নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সাধারণত প্রচলিত জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের তুলনায় কম ল্যাটেন্সি বা ডেটা আদান-প্রদানে কম বিলম্ব নিশ্চিত করে।
তবে এসব নেটওয়ার্কও সীমাবদ্ধতার বাইরে নয়। ব্যান্ডউইডথ ভাগাভাগি, স্পেকট্রামের প্রাপ্যতা, ভূমিতে থাকা অবকাঠামো এবং নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবার মান কমে যেতে পারে।
ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণ মোবাইল ফোনকে সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত করা আর প্রতিটি বাসাবাড়িতে ফাইবার ইন্টারনেটের সমতুল্য ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করা এক বিষয় নয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে এসব সেবা মূলত বার্তা আদান-প্রদান ও নির্দিষ্ট কিছু ডেটাভিত্তিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। তবে কার্যক্ষমতা নির্ভর করবে স্যাটেলাইটের ধরন, স্পেকট্রাম এবং সেবার বিন্যাসের ওপর।
৮০ হাজার মোবাইল টাওয়ারের দিকে নজর কেন স্টারলিংকের?
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮০ হাজার মোবাইল সাইট ব্যবহারের সুযোগ পেতে টেলিযোগাযোগ টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে স্পেসএক্স। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রাউন ক্যাসলের নামও রয়েছে।
চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে এর আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে স্টারলিংক মোবাইল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোবাইল অপারেটর হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে। তখন এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন ও টি-মোবাইলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে তারা।
এ ছাড়া গ্রেইন ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে সর্বোচ্চ ১৪ মেগাহার্টজ পেয়ারড স্পেকট্রাম অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে স্পেসএক্স। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
লো-ব্যান্ড স্পেকট্রামের একটি বড় সুবিধা হলো, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তুলনায় এর সংকেত বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভবনের ভেতরেও তুলনামূলক ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতা বাড়ানো সহজ হয়।
ইন্টারনেট ব্যবস্থায় স্যাটেলাইট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট সংযোগ জরুরি সেবাকর্মী, স্থানীয় সরকার, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে প্রচলিত অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়লেও যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে স্যাটেলাইট ব্যাকআপের অর্থ সাবমেরিন কেবলে বিনিয়োগ কমিয়ে দেওয়া নয়। বরং এ দুটি প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক।
ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে দেশগুলোর উচিত একাধিক কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন ও আন্তর্জাতিক রুটের ব্যবস্থা করা, ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণ করা, স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কের বিকল্প ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য স্যাটেলাইট ব্যাকআপ নিশ্চিত করা।
মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি অবকাঠামোতে বিচ্ছিন্নতার ঘটনা যেন পুরো দেশের জন্য ডিজিটাল বিপর্যয় ডেকে না আনে।
সামনে কী?
২২ অক্টোবর প্রকাশিত ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮০ হাজার মোবাইল সাইট ব্যবহারের সুযোগ পেতে আলোচনা করছে স্পেসএক্স। এই উদ্যোগ স্টারলিংককে দেশজুড়ে মোবাইল সেবা সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বৃহত্তর বাস্তবতা হলো, ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে একাধিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হবে। বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক ডেটা পরিবহনে সাবমেরিন কেবল, দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারে স্থলভিত্তিক ফাইবার ও মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অতিরিক্ত যোগাযোগ ও দুর্গম এলাকায় সংযোগ নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল বিচ্ছিন্ন হলে স্টারলিংক জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু পুরো বৈশ্বিক সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে হলে স্যাটেলাইটের ডেটা পরিবহন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বাড়াতে হবে।



.png)
.png)