ঢাকা,  শুক্রবার
০৯ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, নিয়োগ হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনে

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, নিয়োগ হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনে

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়ার কথা জানান। রাজ্য সরকারের মতে, পৃথক নিয়োগব্যবস্থার পরিবর্তে অভিন্ন কাঠামোর আওতায় নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় আরও সামঞ্জস্য ও শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে।

তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে এখনো আইনগত প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল আনা হবে। বিল দুটি পাস হওয়ার পর রাজ্যপালের অনুমোদন এবং গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে।

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

সম্প্রতি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরই কমিশন বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত সামনে আসে। সরকারের দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনা হলে পুরো প্রক্রিয়া আরও সুসংহত ও কার্যকর হবে।

এর আগে সংখ্যালঘুবিষয়ক শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সরকারের পুনর্মূল্যায়নের মধ্যেই রাজ্যে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মাদ্রাসার কার্যক্রম, অবকাঠামো, অনুমোদনের বৈধতা, পরিচালনব্যবস্থা ও শিক্ষার মান যাচাই করতে রাজ্যজুড়ে সরেজমিন সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। গত জুনে সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এই সমীক্ষা শুরু করে।

সমীক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘খারিজি’ মাদ্রাসাগুলোর ওপর। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত সরকারি অর্থায়নের বাইরে থেকে জনসাধারণের অনুদান ও দাতব্য ট্রাস্টের অর্থে পরিচালিত হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। অন্যদিকে, যেসব মাদ্রাসা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে এবং বৈধ অনুমোদন রয়েছে, সেগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মূলধারার শিক্ষায় আনার উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বক্তব্য, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো তাদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে নিয়োগ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার কার্যক্রম পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।

Advertisement
Advertisement