ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৮ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬

গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

পুলিশ

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল সিমের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), খুদে বার্তা (এসএমএস), পাসপোর্টসহ নাগরিকদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

ডিবির একটি সূত্র জানায়, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এসব তথ্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ওই মামলায় চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর এবং নাগরিকদের সিম বা মুঠোফোন নম্বরের কললিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন, এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগও আনা হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রমনা থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

এজাহারে বলা হয়েছে, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট এবং টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য নজরে আসে। পরে অনুসন্ধান করে সিডিআর বিক্রির টাকা গ্রহণে ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মুঠোফোন নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডি তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ জন্য তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর এবং একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই নম্বরের কোনো জিডি তুরাগ থানায় নথিভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট এএসআইও ওই মুঠোফোন নম্বরগুলোর সিডিআর চাননি। ফলে সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে এসব গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।

Advertisement
Advertisement