ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
০৮ অক্টোবর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

রাজনীতি ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির

হুমায়ুন কবির

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন চলাকালে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পুলিশি হেনস্তা ও আটকের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কার্যকালে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভার কার্যক্রমও সম্পূর্ণ বয়কট করার ঘোষণা দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

এর আগে মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে হুমায়ুন কবীরকে আটক করে পুলিশ। আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পুলিশি হেনস্তা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশের সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট করা হয়েছে।

চলতি বছর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া বিধানসভার বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি—মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি—থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও তিনি আর অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক অভিযোগ এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement
Advertisement