মাহাদি আমিন
বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত না থাকলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চুক্তিটি করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে রোববার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কো-অপারেশন’ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই আলাদা একটি সাইডলাইন বৈঠকে এটি সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, সফরটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, এ সফরের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, আত্মপ্রত্যয় ও আত্মমর্যাদাবোধ আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেননি, তিনি বিশ্ব শান্তির পক্ষেও জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সেখান থেকে ‘ওয়াকআউট’ করে প্রতিবাদ জানায়। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে বিশ্ব শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর দাবি, সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, মাত্র চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক। তিনি জাতিসংঘের আটটি প্রধান ইভেন্টে অংশ নেন এবং সাতটিতে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে দুটি বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ সরকার নিজেই করেছিল। এর একটি ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এবং অন্যটি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে। এ ছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক আরও দুটি বৈশ্বিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকারের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক।



.png)
.png)