ঢাকা,  শুক্রবার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত পুরুষ, মৃত্যু বেশি নারীর

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত পুরুষ, মৃত্যু বেশি নারীর

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা পুরুষের মধ্যে বেশি হলেও মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ৬৪ জন এবং নারী ২৫ হাজার ৮৪৪ জন। অর্থাৎ পুরুষ আক্রান্তের সংখ্যা নারীর চেয়ে ১৭ হাজার ২২০ জন বেশি।

তবে, একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে নারী ১১১ জন এবং পুরুষ ৯৮ জন। অর্থাৎ আক্রান্ত কম হলেও মৃত্যুর সংখ্যায় নারী পুরুষের চেয়ে ১৩ জন বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট আক্রান্তের প্রায় ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী।

১৬–২০ বছর বয়সী পুরুষ ৬ হাজার ২৯৩ জন ও নারী ৩ হাজার ৭৮ জন; ৩১–৩৫ বছর বয়সী পুরুষ ৪ হাজার ১০২ জন ও নারী ২ হাজার ৭৩২ জন এবং ৩৬–৪০ বছর বয়সী পুরুষ ৩ হাজার ৬৩৫ জন ও নারী ২ হাজার ৪৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের আধিক্য থাকলেও মৃত্যুর মিছিলে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। মোট ৬৯ হাজারের বেশি আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ হলেও, মোট ২০৯ জন মৃতের মধ্যে ১১১ জনই নারী। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যু ২১ জন বেশি, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে
বিজ্ঞাপন

২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬৮ জন এবং নারী ৭১৪ জন।

এই সময়ে বিভাগভিত্তিক ভর্তির চিত্রে দেখা যায়— ঢাকা বিভাগে ৭১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেটে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ২১–২৫ বছর বয়সীরা। এই বয়সে পুরুষ আক্রান্ত ৬ হাজার ৬৯৯ জন এবং নারী ৩ হাজার ২৬৮ জন। এরপর ২৬–৩০ বছর বয়সী পুরুষ ৬ হাজার ৪ ৩৩ জন ও নারী ৩ হাজার ৪১৬ জন
মৃত্যুর ভিন্ন চিত্র

আক্রান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের আধিক্য থাকলেও প্রাণহানির চিত্রে নারীরা এগিয়ে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের মৃত্যু ৯৮ জন এবং নারীর ১১১ জন।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৬–৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে, যার মধ্যে নারী ১৪ জন ও পুরুষ ১১ জন। এছাড়া, ৩৬–৪০ বছর বয়সে ২১ জন (নারী ১১, পুরুষ ১০), ৩১–৩৫ বছর বয়সে ২০ জন (নারী ১৩, পুরুষ ৭) এবং ৪৬–৫০ বছর বয়সে ১৯ জন (নারী ১৩, পুরুষ ৬) মারা গেছেন। তবে, ৪১–৪৫ বছর বয়সে চিত্রটি উল্টো; সেখানে ৭ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ মারা গেছেন ১১ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (২৪ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আটজন, যার মধ্যে নারী ছয়জন এবং পুরুষ দুজন। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় নারীর মৃত্যু পুরুষের তিন গুণ। আক্রান্ত এই আটজনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগে তিনজন করে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা যাওয়া ৮৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন ও নারী ৫৫ জন। অর্থাৎ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে ২১ জন বেশি।

অন্যদিকে, ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতে মারা যাওয়া ১১৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৬৩ জন ও নারী ৫৬ জন।

এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রামে ২১ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, বরিশালে ১৬ জন, রাজশাহীতে ১০ জন, রংপুরে চারজন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সেপ্টেম্বরেই অর্ধেকের বেশি মৃত্যু

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বছরের মোট ২০৯টি মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৪ শতাংশ)।

এর আগে আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১২ জন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে, মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য ছিল না।

নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি কেন?

আক্রান্ত কম হওয়া সত্ত্বেও নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গুতে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো স্থূলতা। রোগীর ওজন যত বেশি, ডেঙ্গুর তীব্রতা তত বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের নারীদের একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর শরীরে স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়, যা ডেঙ্গুর সময় ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, নারীরা প্রাথমিক লক্ষণগুলো অবহেলা করে দেরিতে হাসপাতালে আসেন, যা পরবর্তীতে মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

Advertisement
Advertisement

আরো পড়ুন