লিটন দাস
বেলা দেড়টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রায় ২০ মিনিট পিছিয়ে যায় সেটি। কারণ, যিনি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন, সেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস তখনও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিলেন। ম্যাচ শেষ করেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন তিনি। এবারের সংবাদ সম্মেলনের উপলক্ষও ছিল একটু ভিন্ন।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ—এসব প্রতিযোগিতায় নিয়মিতই অংশ নেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তবে এবার লিটনরা যাচ্ছেন এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে। সাধারণত এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানো হলেও এবার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়েই দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। লিটনের জন্যও এটি এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা।
এ নিয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। লিটন বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় বিষয়। তার সঙ্গে এ ধরনের আসরে খেলার সুযোগও বিশেষ কিছু।
তাঁর ভাষায়, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও একটা বড় জিনিস। সব সময় (অন্য টুর্নামেন্টে) জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে সোনা জেতার বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন। আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।’
সোনা জয়ের প্রত্যাশা
রোমাঞ্চের পাশাপাশি লিটনদের ওপর প্রত্যাশার চাপও রয়েছে। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশ বরাবরই পদকের প্রত্যাশা করে। এবারের আসরে মেয়েদের ক্রিকেট দলও ব্রোঞ্জ পদক জিততে পারেনি। উশু ছাড়া অন্য কোনো ইভেন্ট থেকেও এখন পর্যন্ত পদকের খবর নেই। ফলে ছেলেদের ক্রিকেটে পদক জয়ের প্রত্যাশা আরও বেশি।
লিটনও বিষয়টি জানেন। তাঁর মতে, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে দলের ক্রিকেটারদের আগ্রহও অনেক বেশি। কারণ, এমন সুযোগ নিয়মিত আসে না।
লিটন বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের অনেক আগ্রহ আছে এটা নিয়ে। কারণ, এই টুর্নামেন্টটা প্রতিবার আসে না। আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যেকোনো টুর্নামেন্ট এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এ খেলাটা খুব রেয়ার (বিরল) হয়। প্রতিটা খেলোয়াড় অনেক রোমাঞ্চিত। বড় স্বপ্ন যেটা, সেটাই পূরণ করার চেষ্টা করব।’
লক্ষ্য ফাইনাল, এরপর সোনা
এশিয়ান গেমসে আপাতত ফাইনালে ওঠাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন লিটন। তাঁর মতে, ফাইনালে উঠতে পারলেই সোনা জয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি, এদিকেই তাকিয়ে আছি। কারণ, ফাইনাল খেললে আপনার একটা সুযোগ থাকবে সোনা জেতার। ক্রিকেটে যে জিনিসটা বলি, অলওয়েজ ম্যাচ বাই ম্যাচ। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচই যাব।’
অলিম্পিকেও চোখ
গেমসে বাংলাদেশের সাফল্য খুব বেশি নয়। অলিম্পিকে পদক পাওয়া তো দূরের কথা, সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে খেলতে পারা ইভেন্টের সংখ্যাও সীমিত। তবে ক্রিকেটের সামনে এবার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের সমীকরণ সহজ নয়। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলগুলো সরাসরি জায়গা পাবে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি খেলবে।
বাকি একটি দলকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে হবে। সেখানে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বাংলাদেশকে।
লিটনের মতে, ক্রিকেট অলিম্পিকে সাফল্য পেলে সেটি দেশের অন্যান্য খেলাধুলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রিকেটের মাধ্যমে অন্য ক্রীড়াবিদদেরও অনুপ্রাণিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অধিনায়কের ভাষায়, ‘দেশের জন্য কোনো কিছু করতে পারা তো অনেক বড় বিষয়। আর সেটা যদি খেলার মাধ্যমে হয়, কেন নয়? আমরা ক্রিকেটে আলাদা। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে যদি কোনো গেমের উন্নতি হয় বা অন্য কোনো স্পোর্টসের যদি সুযোগ আসে, আমরা এটা চেষ্টা করব।’
সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ
র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল।
তবে ওই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আপাতত সেই ম্যাচ দিয়েই এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত লিটন দাসের দল।



.png)
.png)