ঢাকা,  মঙ্গলবার
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

প্লাস্টিক চেয়ারের চেয়েও সরু গাড়ি, গিনেস রেকর্ডে ইতালির আন্দ্রেয়া

প্রকাশিত: ১৮:০১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্লাস্টিক চেয়ারের চেয়েও সরু গাড়ি, গিনেস রেকর্ডে ইতালির আন্দ্রেয়া

প্লাস্টিক চেয়ারের চেয়েও সরু গাড়ি

চারটি চাকা আছে, দেখতে অনেকটা ছোট গাড়ির মতো। তবে এর প্রস্থ মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার—অর্থাৎ প্রায় ১ ফুট ৮ ইঞ্চি। ঘর বা অফিসে ব্যবহৃত সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারও এর চেয়ে চওড়া। ফলে দরজা দিয়েই গাড়িটি অনায়াসে শোবার ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে প্রস্থে এত সরু হলেও গাড়িটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট।

এমন ব্যতিক্রমী গাড়ি তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন ইতালির গাড়ির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা গাড়িকে রূপান্তর করে তিনি তৈরি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়িগুলোর একটি। গাড়িটির নাম দিয়েছেন ‘পান্ডা পার উনো’, যার অর্থ ‘পান্ডা ফর ওয়ান’।

পুরোনো ফিয়াট পান্ডা থেকেই নতুন গাড়ি

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এমন একটি গাড়ি তৈরির চিন্তা আসে মারাজ্জির মাথায়। গাড়ি ভাঙা এবং অকেজো গাড়ি থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা করার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে তাঁদের।

সেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১৯৯৩ সালের একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা গাড়ি আসে ভাঙার জন্য। ইতালির প্রাচীন শহরগুলোর সরু গলিতে চলাচলের জন্য ফিয়াট পান্ডা বেশ পরিচিত। গাড়িটি দেখে সেটিকে ফেলে না দিয়ে অন্যভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন মারাজ্জি।

প্রতি বছর ইতালির পান্দিনো শহরে ফিয়াট পান্ডা গাড়ির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাড়িপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমী কিছু উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকেই পুরোনো পান্ডাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়িতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

মাঝখান থেকে কেটে সরু করা হয় গাড়ি

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে গাড়িটির দরজা ও দুই পাশের প্যানেল খুলে ফেলা হয়। এরপর গাড়ির মূল কাঠামো মাঝখান থেকে কেটে প্রস্থ কমিয়ে দুই পাশের অংশ আবার জোড়া লাগানো হয়।

এই কাজের সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল গাড়ির দুই পাশকে নিখুঁতভাবে সমান রেখে কেটে জোড়া লাগানো। সামান্য এদিক-সেদিক হলেই গাড়ির কাঠামো ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ত।

এরপর বনেট, ছাদ ও পেছনের দরজার জন্য নতুন করে বডি ও জানালা তৈরি করেন মারাজ্জি। তবে গাড়িটির প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই এসেছে পুরোনো ফিয়াট পান্ডা থেকে।

আছে বৈদ্যুতিক মোটর, চলে ১৫ কিলোমিটার গতিতে

নতুন গাড়িটি শুধু প্রদর্শনের জন্য নয়, সফলভাবে চালিয়েও দেখিয়েছেন আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। ‘পান্ডা পার উনো’তে রয়েছে ছোট একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি। গাড়ির স্টিয়ারিংও আকারে ছোট করা হয়েছে। পাশাপাশি হেডলাইট ও দিকনির্দেশক বাতিগুলোও সচল রয়েছে।

তবে গাড়িটির গতি খুব বেশি নয়। সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এটি।

এ ছাড়া গাড়িটি খুব সরু হওয়ায় বাঁক নেওয়ার সময় স্থিতিশীলতা কিছুটা কমে যায়। ফলে এটি দ্রুতগতিতে চালানোর উপযোগী নয়।

তবু পুরোনো একটি ফিয়াট পান্ডাকে এমন অভিনব আকৃতিতে রূপ দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোয় আন্দ্রেয়া মারাজ্জির ‘পান্ডা পার উনো’ এখন গাড়িপ্রেমীদের কাছে বেশ কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

Advertisement
Advertisement