অ্যালার্জি হচ্ছে আমাদের ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা) একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। পরিবেশের কোনো অ্যালার্জেনের কারণে মানব শরীরে অতিসংবেদনশীলতা (হাইপারসেনসিটিভিটি) কিংবা অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া হলে দেখা দেয় অ্যালার্জি। একে বলে অ্যালার্জিক রি–অ্যাকশন বা হাইপারসেনসিটিভিটি রি–অ্যাকশন।
অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণগুলো হলো হাঁচি, কাশি, চুলকানি, চামড়া ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি। তবে অ্যালার্জি বেশি গুরুতর হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এসব দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অ্যালার্জিকে অবহেলা না করে প্রতিকার করতে হবে। যদি কোনো কারণ নির্ণয় করা না যায়, তাহলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায় অনেকের বৃষ্টিতে ভিজলে, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে, ধুলাবালুতে গেলে, একটু ঠান্ডা লাগলে বা কোনো ঠান্ডা পানীয় পান করলে প্রচণ্ড সর্দি–কাশি শুরু হয়ে যায়। এমন হলে বোঝা যায়, বৃষ্টির পানি, ধুলাবালু, পুকুরের পানি বা ঠান্ডা জলীয় বস্তু কারও কারও জন্য অ্যালার্জেন আর কারও জন্য স্বাভাবিক। সর্দি-কাশি শুরু হয়ে গেলে তাকে বলা হয় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। আর এই সমস্যা হলে সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন (মুখের ভেতরের ঝিল্লি আবরণ) আক্রান্ত হয়, হিস্টামিনের প্রভাবে সেখান থেকে তৈরি হয় প্রচুর মিউকাস। শ্বাসযন্ত্রে লিউকোট্রিন নামের একপ্রকার পদার্থ তৈরি হয়, যা কাশি তৈরিতে শ্বাসযন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে নাক দিয়ে পানি পড়ে, বারবার হাঁচি–কাশি হয়, গলা খুসখুস করে, সঙ্গে হালকা জ্বরও থাকতে পারে। অনেক সময় রাইনোভাইরাস অ্যালার্জির কারণ হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হলে চোখ লাল হয়ে যায়। চোখ থেকে পানি পড়ে, ব্যথা করে, চুলকায়। ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুদের মধ্যে এই অ্যালার্জির সমস্যা বেশি দেখা যায়। ঠান্ডা লাগলে বা ধুলাবালু লাগলে তাদের চোখ লাল হয়ে যায়। গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, বেগুন, চিংড়ি, সামুদ্রিক মাছ খেলে কারও কারও শরীরে চুলকানি হয়। এটাও একধরনের অ্যালার্জি।
কিছু মানুষের কোনো বিশেষ ওষুধে (বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক) অ্যালার্জি থাকে। ওই ওষুধ খেলে শরীর চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে যায়। আরও গুরুতর হলে মুখে ঘা, শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। এমন হলে বুঝে নিতে হবে, ওই ওষুধের প্রতি তাঁর হাইপারসেনসিটিভিটি রয়েছে।
অ্যাটোপিক একজিমা একপ্রকার অ্যালার্জি। এতে ত্বক খসখসে, শুষ্ক হয়ে পড়ে, সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকানিও থাকে। সমস্যা গুরুতর হলে ত্বক ফেটে যায়, এমনকি রক্তপাতও হতে পারে। সাধারণত সাবান, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি পদার্থের প্রতিও সংবেদনশীলতা থাকে।