ঢাকা,  শনিবার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের ক্ষমতা পেল ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১৩:২৮, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের ক্ষমতা পেল ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হচ্ছে না। কোন দেশকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সুযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া আয় কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো।

আইনে রাশিয়ার তেলের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের নাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসন পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির মাত্রা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই ভারত ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত। এর আগে রাশিয়ার তেল আমদানির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপও করেছিল।

আইনটির প্রস্তাবকদের অন্যতম ছিলেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তাঁর নামেই নতুন আইনের নামকরণ করা হয়েছে। আগস্টে সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদেও এটি অনুমোদিত হয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন।

ট্রাম্পের স্বাক্ষরের এক দিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে। মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নতুন মার্কিন আইন বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক কোন দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন শাস্তিমূলক শুল্কের আওতায় আনবে এবং ভারতকে সেই তালিকায় রাখা হবে কি না। বিষয়টি নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

Advertisement
Advertisement