ঢাকা,  শনিবার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Advertisement
Advertisement

স্ত্রী প্রবাসে, সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বিষ পান

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রী প্রবাসে, সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বিষ পান

তাহিরপুর

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও কীটনাশক পান করেছেন এক বাবা। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বাবাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তিন শিশু হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরাফত আলী (৩৫) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে কোনো একসময় সরাফত আলী তাঁর তিন সন্তানকে কীটনাশক পান করানোর পর নিজেও তা পান করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, বিষপানে গুরুতর অসুস্থ সরাফত আলীকে প্রথমে বাদাঘাট থেকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ভোরে তিনি শিশুদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তাঁর দাবি, সরাফত আলী সন্তানদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেছেন। তিনি আরও বলেন, সরাফত আলী জুয়া ও মাদকে আসক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

চেয়ারম্যান জানান, নিহত শিশুদের মা প্রবাসে থাকেন। কয়েক দিন আগে তিনি দেশে এসেছিলেন এবং তিন-চার দিন আগে আবার প্রবাসে চলে যান। অভাব-অনটনের কারণে সরাফত আলী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, শিশুদের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement