ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
১৩ জুন ২০২৪

Advertisement
Advertisement

চলতি বছর দেশে ৭ ভূমিকম্প, বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপডেট: ০৮:৪৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

চলতি বছর দেশে ৭ ভূমিকম্প, বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

ভূমিকম্প

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য বলছে চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে বাংলাদেশ এর আশপাশে ৩১টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি দেশের সীমারেখায় অভ্যন্তরে হয়েছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ভূমিকম্প হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রোববার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল .২। হালকা মাত্রার এই ভূমিকম্প হয় দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে (উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে)  

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবাঈয়াৎ কবীর বলেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি টাঙ্গাইল শহরের আশপাশে হতে পারে। তবে ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাইসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি টাঙ্গাইলের সখিপুরে।

আরও পড়ুন: শাহিনের হাত-পা কেটে ফেলতে ২০ হাজার টাকা দেন সাবেক এমপি আউয়াল

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, রোববারের ভূমিকম্পটি ছিল মাত্রার, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে। তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাইসমোলজির তথ্যকেই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে . মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। মে ঢাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে দোহারে উৎপত্তি হওয়া . মাত্রার ভূমিকম্পটি বেশ আতঙ্ক তৈরি করে মানুষের মধ্যে। একই মাসের ১৭ তারিখে . মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে নেত্রকোনায়।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে . মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় গত ১৬ জুন। তবে এখন পর্যন্ত চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয় গত ১৪ আগস্ট। . মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। শুধু চলতি বছরই নয়, ২০ বছরের মধ্যে দেশের ভেতর উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার। এর ১৫ দিনের মধ্যেই গত ২৯ আগস্ট সিলেটে . মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, এক বছর আগেও এত ভূমিকম্প হয়নি। কিন্তু বছরের প্রথম থেকে বাংলাদেশ এর আশপাশে ভূমিকম্পের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের সীমানার ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেও যদি কোনো একটা বড় ভূমিকম্প হয়, সেটা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

তিনি আরো বলেন, যমুনা সেতুর নকশাই করা হয়েছিল টাঙ্গাইল মধুপুর এলাকায় ১৮৮৫ সালে হয়ে যাওয়া (.) মাত্রার বড় ভূমিকম্পটি মাথায় রেখে। ১৯১৮ সালে সিলেটে . মাত্রার বড় ভূমিকম্প হয়। তার মানে ঐতিহাসিকভাবে এই জায়গাগুলোতে আগেও ভূমিকম্প হয়েছে। এই ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হয়তো বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত করছে।

Advertisement
Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /mnt/volume_sgp1_05/p1kq0rsou/public_html/details.php on line 531